২০০৩ সালের গাড়িটির দাম উঠেছে ১৩ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি। এর মাধ্যমে এটি শুধু অনলাইনভিত্তিক নিলামে বিক্রি হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়িতে পরিণত হয়েছে।
গাড়িটির বিশেষত্ব এর ইঞ্জিন বা প্রযুক্তিতে নয়। বরং এর মূল্য বাড়িয়েছে একটি বিশেষ রঙ। ফেরারি এনজোর ৪০০টি ইউনিট তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে একটি তৈরি হয়েছিল ‘রোসো ডিনো’ রঙে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রঙই গাড়িটিকে সংগ্রাহকদের কাছে অনন্য করে তুলেছে।
২০০২-০৪ সালের মধ্যে ফেরারি এনজো উৎপাদন করা হয়। অধিকাংশ গাড়িই ছিল লাল, হলুদ, কালো বা রুপালি রঙের। কিন্তু একটি গাড়ির জন্য বিশেষভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল বহু বছর ধরে ব্যবহার না হওয়া রোসো ডিনো রঙ।
রঙটির নামকরণ হয়েছে ফেরারি প্রতিষ্ঠাতা এনজো ফেরারির ছেলে আলফ্রেডো ফেরারির স্মরণে। ‘ডিনো’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। ফলে রঙটির সঙ্গে ফেরারির ইতিহাস ও আবেগের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
গাড়িটির প্রথম মালিক ছিলেন সংগ্রাহক ও পোশাক আমদানিকারক জেরাল্ড বার্নস। তিনি ফেরারির ব্যক্তিগত কাস্টমাইজেশন কর্মসূচির মাধ্যমে গাড়িটি অর্ডার করেছিলেন। সে সময় তার অনুরোধেই রোসো ডিনো রঙটি আবার ব্যবহার করা হয়। গাড়িটির জন্য বিশেষ রঙের অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল ২ হাজার ৩৬৪ ডলার। অন্যদিকে গাড়িটির মূল দাম ছিল প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ডলার।
সম্প্রতি ডুপন্ট রেজিস্ট্রি লাইভের অনলাইন নিলামে গাড়িটি বিক্রি হয়। নিলামে ৭২৫টির বেশি বিড জমা পড়ে। এছাড়া ১১৫ জন সম্ভাব্য ক্রেতা নিলামটি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করেন। গাড়িটির তথ্য পৃষ্ঠা ৯ হাজার ৫০০ বারের বেশি দেখা হয়।
গাড়িটি এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ৭৫৮ মাইল চলেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এতে বড় ধরনের সার্ভিসিংও করা হয়। ফেরারি এনজোর মোট ৪০০ ইউনিটের মধ্যে মাত্র ১২৭টি যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হয়েছিল। এ গাড়ি তারই একটি।
ফেরারির এনজো মডেলটি বিক্রি অনলাইন নিলাম বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর আগে শুধু অনলাইন নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি গাড়ির মূল্য ছিল ৫৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ফেরারি এনজো সেই রেকর্ডকে দ্বিগুণেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সংগ্রহযোগ্য বিলাসবহুল পণ্যের বাজারে এখন শুধু প্রযুক্তি বা যান্ত্রিক সক্ষমতা নয়, ইতিহাস, বিরলতা এবং পণ্যের পেছনের গল্পও বড় ভূমিকা রাখছে।
এ জাতীয় আরো খবর..