২০২৪ সালে অন্য দেশের তুলনায় চীনের একটি সাধারণ ইস্পাত কোম্পানি তাদের মোট সম্পদের বিপরীতে প্রায় ১৫ গুণ বেশি সরকারি ভর্তুকি পেয়েছে। এ বিপুল সহায়তার ওপর ভর করে ২০২৫ সালে চীন রেকর্ড ১৩ কোটি ১০ লাখ টন ইস্পাত রফতানি করেছে। এটি ২০২০ সালের তুলনায় ১৫৩ শতাংশ বেশি। এমনকি ওই বছর পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মোট উৎপাদনের চেয়েও অনেক বেশি ছিল।
বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত উৎপাদন ও সরকারি প্রণোদনার (সাবসিডি) কারণে আন্তর্জাতিক ইস্পাত শিল্পে গভীর সংকট তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সহায়তায় উৎপাদিত ইস্পাতের কারণে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্য উন্নত অর্থনীতির দেশের উৎপাদকেরা চরম চাপের মুখে পড়েছেন। বাজারে চাহিদা কম থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিতে পারে এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নষ্ট করছে। আবাসন খাত, গাড়ি নির্মাণ, বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও ডেটা সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল এ ইস্পাত। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
প্যারিসভিত্তিক সংস্থা ওইসিডি জানিয়েছে, সরকারি প্রণোদনাই বিশ্বব্যাপী উদ্বৃত্ত ইস্পাত উৎপাদনের মূল কারণ। গত দুই দশকে উন্নত দেশগুলোর বাইরে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে অন্য দেশের তুলনায় চীনের একটি সাধারণ ইস্পাত কোম্পানি তাদের মোট সম্পদের বিপরীতে প্রায় ১৫ গুণ বেশি সরকারি ভর্তুকি পেয়েছে। এ বিপুল সহায়তার ওপর ভর করে ২০২৫ সালে চীন রেকর্ড ১৩ কোটি ১০ লাখ টন ইস্পাত রফতানি করেছে। এটি ২০২০ সালের তুলনায় ১৫৩ শতাংশ বেশি। এমনকি ওই বছর পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মোট উৎপাদনের চেয়েও অনেক বেশি ছিল।
ওইসিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ইস্পাত সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৬৪ কোটি টন, যা ২০২৮ সালের মধ্যে বেড়ে সাড়ে ৭৪ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে। কারণ বাজারে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা অনেক দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা মাত্র ৩ কোটি ৪০ লাখ টন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে উৎপাদকরা একই সময়ে আরো ১৩ কোটি ৯০ লাখ টনের নতুন উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যে চীন একাই ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করবে, যা যেকোনো দেশের চেয়ে সর্বোচ্চ।
বাজারের এ ভারসাম্যহীনতার কারণে স্থানীয় ইস্পাত শিল্পের অস্তিত্ব সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন নীতিপ্রণেতারা। এতে অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ পণ্যের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা আরো বাড়বে। ওইসিডির মহাসচিব মাথিয়াস করম্যান এ সংকটের মূল কারণ হিসেবে ক্ষতিকর ভর্তুকি বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সব দেশের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খরচ বাড়ায় ইউরোপের উৎপাদকরা উচ্চ শ্রমমূল্য ও পরিবেশগত কঠোর নিয়মের কারণে তীব্র লোকসানের মুখে পড়েছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..