সর্বশেষ :

গবেষণা প্রতিবেদন

তরুণ মিলেনিয়ালের তুলনায় বেশি আয় করছে জেনজি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৫, | ১৮:৪৫:৪৮ |
কর্মজীবনের শুরুতেই আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি আয় করছেন জেনজি প্রজন্মের তরুণরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিংকট্যাংক রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের এক নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৯৯৭-২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের সাধারণত জেনজি বলা হয়। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, এ প্রজন্মের কর্মীরা তাদের বেতনের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে জন্ম নেয়া জেনজি কর্মীদের ২৪ বছর বয়সে এসে প্রকৃত সাপ্তাহিক আয়, ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে জন্ম নেয়া একই বয়সী মিলেনিয়ালদের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। এমনকি ২০০০ সালের শুরুতে জন্ম নেয়া ২৪ বছর বয়সী কর্মীরা ১৯৫০-এর দশকের পর যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি আয় করছেন। উল্লেখ্য, গবেষণাটি মূল্যস্ফীতির সমন্বয় করে করা হয়েছে।

রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের মতে, মিলেনিয়ালরা হলেন মানব ইতিহাসের প্রথম প্রজন্ম, যারা তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের চেয়ে বেশি আয় করতে পারেননি।

থিংকট্যাংকের গবেষকরা জানান, এ অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রধান কারণ ছিল মিলেনিয়ালদের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির গতি স্থবির হয়ে ছিল

রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ চার্লি ম্যাককার্ডি বলেন, ‘অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন এ অর্থনৈতিক স্থবিরতা হয়তো জেনজি প্রজন্মের ওপরেও প্রভাব ফেলবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।’

গবেষণায় দেখা গেছে, জেনজি প্রজন্মের সবচেয়ে কম বেতন পাওয়া বা নিচের সারির ১০ শতাংশ কর্মীর আয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে ন্যূনতম মজুরি বা মিনিমাম ওয়েজ বৃদ্ধির কারণে এ পরিবর্তন এসেছে। ২০১২-২৫ সালের মধ্যে প্রকৃত অর্থে তাদের বেতন ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

আয়ের তালিকার কিছুটা ওপরের দিকে থাকা ২২-২৯ বছর বয়সী যেসব কর্মী গড় বা মাঝারি মানের আয় করেন, একই সময়ে তাদের ঘণ্টা হিসাবে বেতন ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এর বিপরীতে ৩০-এর কোঠায় থাকা কর্মীদের বেতন বেড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ ও সামগ্রিকভাবে সব কর্মীর গড় বেতন বেড়েছে ১১ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে তরুণ কর্মীরা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছেন।

তবে গবেষণাটি ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছে। গবেষকদের মতে, জেনজির জন্য যে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, জ্বালানি ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে প্রকৃত মজুরি আবার চাপের মুখে পড়তে পারে।

রেজল্যুশন ফাউন্ডেশনের মতে, জেনজি প্রজন্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো কর্মজীবনে প্রবেশই করতে পারেনি। ফলে সবার জন্য আয় বৃদ্ধির সুফল সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

গবেষকরা বলছেন, যারা এরই মধ্যে চাকরিতে প্রবেশ করতে পেরেছেন তাদের জন্য পরিস্থিতি আগের প্রজন্মের তুলনায় কিছুটা ভালো। কিন্তু কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ না বাড়ালে অনেক তরুণ এ অগ্রগতির বাইরে থেকে যাবে।

তাদের মতে, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

কারণ জেনজির ভবিষ্যৎ শুধু বেতন বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করছে না; বরং কত বেশি তরুণকে শ্রমবাজারে যুক্ত করা যায়, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..