কেন পাকিস্তান সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৪, | ১২:৪৪:৩৮ |

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই সফর যেমন পাকিস্তানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের, তেমনি এটি আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও একটি বড় বার্তা।

গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই হয়, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সুইজারল্যান্ডের ওই আলোচনায় চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রূপরেখা পাওয়া গেছে, যার অধীনে ইরান ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এই সফল মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক সংকটে পাশে থাকার জন্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই পেজেশকিয়ানের এই সফর। সফরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকগুলোতে সুইজারল্যান্ডের আলোচনার পরবর্তী ধাপের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জ্বালানি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সফরের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো এই সমঝোতা নিয়েও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানামুখী বিভাজন দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে এবং আঞ্চলিক সমর্থন বাড়াতে পেজেশকিয়ানের জন্য এই সফর অত্যন্ত জরুরি ছিল। অন্যদিকে, এই সফরের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান কেবল একটি সাধারণ বার্তাবাহক দেশ হিসেবে নয় বরং এই অঞ্চলের একটি অন্যতম শক্তিশালী ও স্বীকৃত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের কূটনৈতিক মর্যাদা প্রমাণ করল। ইরানের সাবেক কূটনীতিকদের মতে, পেজেশকিয়ান এই সফরের মাধ্যমে প্রমাণ করছেন যে, ইরানের এই কূটনীতি কোনো আত্মসমর্পণ নয় বরং আঞ্চলিক বন্ধুদের পাশে নিয়ে নিজেদের সার্বভৌম অবস্থান বজায় রেখেই তারা বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..