✕

সর্বশেষ :
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৩ নম্বরে ওঠার হাতছানি বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১৮টি কোচের চালান পাঠাল ভারত, থাকছে যে সুবিধা হামলার ভয়ে সৌদি বিনিয়োগ সম্মেলন হাইব্রিড মডেলে করার ভাবনা ক্যান্সারসহ ৭ রোগে আর্থিক সহায়তা পেতে নতুন করে আবেদনের নির্দেশ শিকারিদের ফাঁদে হুমকিতে প্রকৃতির বন্ধু বক সৌদির শোধনাগারে হুতির হামলা, অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ১০৭ ডলার সৌদি আরবের নিরাপত্তায় অবিচল সমর্থনের অঙ্গীকার পাকিস্তানের বেতনের বাইরে ইনফান্তিনো পেলেন ২১ কোটি টাকা, প্রকাশ করেনি ফিফা প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়েই স্বামীর সঙ্গে ট্রাম্পকে গুলিয়ে ফেললেন নতুন মার্কিন প্রেস সচিব

কেন হলুদ জার্সি পরে খেলে ব্রাজিল?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১১, | ১৯:১৫:৫৪ |
বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল মানেই উজ্জ্বল হলুদ জার্সির জৌলুস, গ্যালারিজুড়ে সবুজ-হলুদের ঢেউ আর নান্দনিক ফুটবলের প্রতীক। তবে এই বিখ্যাত জার্সির পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর বেদনার ইতিহাস, যার সূচনা হয়েছিল ১৯৫০ সালের ‘মারাকানা ট্র্যাজেডি’ থেকে।

১৯৫০ সালের আগে ব্রাজিল জাতীয় দল মাঠে নামত সাদা জার্সিতে। কিন্তু ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে চরম হতাশায় ডুবে যায় পুরো দেশ। প্রায় দুই লাখ দর্শকের সামনে মারাকানা স্টেডিয়ামে সেই হারকে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ম্যাচ শেষে নেমে আসে নিস্তব্ধতা, আর পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শোকের ছায়া।

এই পরাজয়ের পরই সাদা জার্সিকে ‘অলক্ষুণে’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন অনেক সমর্থক। ফুটবল ফেডারেশনের ভেতরেও শুরু হয় নতুন পরিচয়ের খোঁজ। সিদ্ধান্ত আসে— জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিল রেখে নতুন জার্সি ডিজাইন করতে হবে, যা ব্রাজিলের নতুন সূচনার প্রতীক হবে।

এরপর ১৯৫৩ সালে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন জার্সির নকশা চূড়ান্ত করা হয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সী ডিজাইনার আলদির গার্সিয়া শ্লির নকশা জয়ী হয়, যেখানে ব্রাজিলের পতাকার রঙগুলো স্থান পায়। হলুদ শার্ট, সবুজ ট্রিম, নীল শর্টস এবং সাদা মোজা মিলিয়ে জন্ম নেয় আজকের সেই কিংবদন্তি ‘ক্যানারিনহো’ জার্সি।
১৯৫৪ সালে প্রথমবারের মতো নতুন জার্সিতে মাঠে নামে ব্রাজিল। এরপর সময়ের সঙ্গে এই হলুদ জার্সি শুধু একটি কিট নয়, বরং ফুটবলের সৌন্দর্য, আনন্দ এবং সৃজনশীলতার প্রতীক হয়ে ওঠে। পেলে, জাইরজিনহো, জিকো থেকে শুরু করে সক্রেটিস— সবাই এই জার্সিকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অমর করে রাখেন।

১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপা জেতে ব্রাজিল। এরপর ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে আরও দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় তারা। বিশেষ করে ১৯৭০ সালের দলকে অনেকেই সর্বকালের সেরা ফুটবল দল হিসেবে বিবেচনা করেন, যারা রঙিন টেলিভিশনে বিশ্বকে প্রথমবারের মতো হলুদ জার্সির জাদু দেখায়।

তবে এই জার্সির পথচলা সবসময় সহজ ছিল না। ১৯৫০ সালের পরাজয়ের মানসিক ধাক্কা ব্রাজিলকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়ায়। সেই স্মৃতি কাটিয়ে উঠতেই নতুন পরিচয়ের খোঁজে জার্সি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে মনে করেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ধীরে ধীরে হলুদ-সবুজ জার্সি ব্রাজিলের জাতীয় আবেগে পরিণত হয়। এটি শুধু একটি খেলাধুলার পোশাক নয়, বরং এক ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে ওঠে, যা ব্রাজিলিয়ানদের গর্ব ও পরিচয়ের অংশ।

১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে আরও দুইবার বিশ্বকাপ জিতে ব্রাজিল তাদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরায় প্রমাণ করে। তবে ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ১-৭ গোলের লজ্জাজনক হার আবারও ইতিহাসের কঠিন স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।

এখন নতুন প্রজন্মের সামনে প্রশ্ন একটাই— এই ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি পরে ব্রাজিল কি পারবে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে?

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..