সব কার্ড এখন চীনের হাতে!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৯, | ১৮:৩২:১৩ |

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরের ঠিক পরপরই বেইজিং যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দুই নেতার নিয়মিত বৈঠক নয়; বরং বর্তমান বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে পুতিনের। সফরের আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য হলো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ২০০১ সালের ‘ট্রিটি অব গুড-নেইবারলিনেস অ্যান্ড ফ্রেন্ডলি কোঅপারেশন’-এর ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক গভীর।

পুতিনের এই সফরের ঘোষণা আসে ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পর। ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে বড় বাণিজ্যিক চুক্তির কথা বলা হলেও তাইওয়ান ইস্যু কিংবা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এ পরিস্থিতি মস্কোর জন্য স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সরে আসার কোনও পরিকল্পনা করছে না। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও মস্কো- উভয় পক্ষের সঙ্গেই ধারাবাহিক যোগাযোগ রেখে বেইজিং নিজেকে বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা গবেষক মেরিনা মিরন বলেন, পুতিনের সফরে বড় ধরনের কোনও নীতিগত পরিবর্তন না এলেও রাশিয়া-চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

তার ভাষায়, “দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং সামরিক প্রযুক্তি বিনিময় আরও বাড়বে।”

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ রাশিয়া বিশ্লেষক ওলেগ ইগনাটোভ বলেন, রাশিয়া ও চীন কৌশলগত অংশীদার হলেও তারা আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে রূপ নিচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া এখন অনেকটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের সহযোগী গবেষক টিমোথি অ্যাশ বলেন, “পুতিনের এখন শি জিনপিংকে বেশি প্রয়োজন। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া কার্যত চীনের ওপর নির্ভরশীল অংশীদারে পরিণত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া সম্ভবত চীনের কাছ থেকে আরও সামরিক সহায়তা আশা করছে, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে।

জ্বালানি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে। চীন তুলনামূলক কম দামে রুশ জ্বালানি কিনতে আগ্রহী, অন্যদিকে রাশিয়া চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনাও এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, যা চীনের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে স্বল্পমেয়াদে এই সংকট থেকে কিছুটা লাভবান হচ্ছে রাশিয়া, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি প্রতিযোগীরা চাপের মুখে পড়েছে। তারপরও দীর্ঘমেয়াদে মস্কো ও বেইজিং- উভয়ই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা চায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চীন রাশিয়ার ওপর কোনও চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। বরং বেইজিং প্রকাশ্যে ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান’ ও ‘মধ্যস্থতার’ কথা বললেও মস্কোকে অপমানজনক পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পকে আতিথ্য দেওয়ার পরপরই পুতিনের এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে চীন, তাহলো বর্তমান বিভক্ত বিশ্ব ব্যবস্থায় বেইজিংকে উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..