সর্বশেষ :
জামিন পেলেন ইরানের নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদী, হাসপাতালে ভর্তি পুলিশ বাহিনী চেইন অব কমান্ড মেনে কাজ না করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তে বুথ বসাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ ইমানের নিরাপদ দুর্গ মদিনা মুনাওয়ারা বিশ্বকাপের সেই পেনাল্টি এখনো ভুলতে পারেননি বাজ্জো সৌরজগতের দূরবর্তী বরফাচ্ছন্ন মহাজাগতিক বস্তুর চারপাশে মিলল বায়ুমণ্ডল সাফ শিরোপা জেতায় র‌্যাংকিংয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল ওপেনএআইয়ের নতুন মূল্য নীতিতে বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি বাজার মক্কার জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে ৬০ পৃষ্ঠার হাতে লেখা কোরআন যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫১

বিশ্বকাপের সেই পেনাল্টি এখনো ভুলতে পারেননি বাজ্জো

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১১, | ১৩:৪৫:৫৬ |

রবার্তো বাজ্জো ফুটবল ইতিহাসের এক কিংবদন্তি নাম। কিন্তু এই নাম উচ্চারণ হলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে এক বিষণ্ন মুখ। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দৃশ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে ইতালিয়ান এই কিংবদন্তিকে।

সম্প্রতি নিজের নতুন বই ‘অন্ধকারে আলো’ প্রকাশ উপলক্ষে ইতালির একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বাজ্জো খুলে বলেছেন জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তগুলোর কথা। সেখানে উঠে এসেছে বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই পেনাল্টি মিস, ভয়াবহ চোটের সঙ্গে লড়াই এবং আধ্যাত্মিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা।

সাক্ষাৎকারে বাজ্জো স্বীকার করেন, ১৯৯৪ সালের সেই মুহূর্ত আজও তাকে ঘুমের মধ্যে তাড়া করে। তিনি বলেন, পুরো ইতালির মানুষের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাই। এত বড় লজ্জা ও কষ্টের স্মৃতি জীবনে আর কখনো ভুলতে পারেননি।

তার ভাষায়, কখনো কখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয় পেনাল্টিটা গোল হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ফিরে আসতেই আবার সেই ব্যর্থতার অনুভূতি তাকে গ্রাস করে। তিন দশক পরও যেন সেই বলটি এখনো আকাশে ভাসছে।

তবে বাজ্জোর জীবন কেবল একটি পেনাল্টি মিসের গল্প নয়। এটি লড়াই, যন্ত্রণা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও। ১৯৮৫ সালে ফিওরেন্তিনায় যোগ দেওয়ার পরই ভয়াবহ চোটে ছিঁড়ে যায় তার হাঁটুর গুরুত্বপূর্ণ লিগামেন্ট। সেই সময় পরিবারের পুরোনো গাড়িতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়েছিল তাকে। পুরো পথজুড়ে একটাই ভয় কাজ করছিল তিনি কি আর কখনো ফুটবল খেলতে পারবেন?

অস্ত্রোপচারের পরের অভিজ্ঞতা ছিল আরও ভয়ংকর। সে সময় চিকিৎসাব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না। অস্ত্রোপচারের পর অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছিলেন বাজ্জো। তিনি বলেন, জ্ঞান ফেরার পর ব্যথায় চিৎকার করছিলাম। তখন মাকে বলেছিলাম, যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো, তবে আমাকে মেরে ফেলো।

কিন্তু সেই যন্ত্রণাই তাকে মানসিকভাবে আরও শক্ত করে তোলে। ইনজুরির কারণে খেলতে না পারায় ক্লাবের বেতন পর্যন্ত নিতে চাননি তিনি। আত্মসম্মান ও দায়িত্ববোধকে সবসময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।

জীবনের কঠিন সময়গুলোতে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসই তাকে শক্তি জুগিয়েছে বলে জানান বাজ্জো। বৌদ্ধধর্মের দর্শন তাকে নতুনভাবে জীবন বুঝতে সাহায্য করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের ভেতরেই অসীম শক্তি লুকিয়ে থাকে। তার ভাষায়, সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে বৌদ্ধধর্ম তাকে ভেঙে পড়তে দেয়নি, বরং আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছে।

বিশ্বকাপের সেই পেনাল্টি মিস আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। কিন্তু রবার্তো বাজ্জোর গল্প শুধু একটি ব্যর্থতার গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকার এক অনন্য উদাহরণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..