সর্বশেষ :
জামিন পেলেন ইরানের নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদী, হাসপাতালে ভর্তি পুলিশ বাহিনী চেইন অব কমান্ড মেনে কাজ না করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তে বুথ বসাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ ইমানের নিরাপদ দুর্গ মদিনা মুনাওয়ারা বিশ্বকাপের সেই পেনাল্টি এখনো ভুলতে পারেননি বাজ্জো সৌরজগতের দূরবর্তী বরফাচ্ছন্ন মহাজাগতিক বস্তুর চারপাশে মিলল বায়ুমণ্ডল সাফ শিরোপা জেতায় র‌্যাংকিংয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল ওপেনএআইয়ের নতুন মূল্য নীতিতে বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি বাজার মক্কার জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে ৬০ পৃষ্ঠার হাতে লেখা কোরআন যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫১

সন্তানকে শুধু পড়ালেখা নয়, শেখান ঘরের কাজও

যা জানাল হার্ভার্ডের ৭৫ বছরের গবেষণা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১০, | ১৯:৩৮:৫১ |

শিশুর ভবিষ্যৎ সফলতা কি শুধু ভালো ফলাফল বা বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করে? হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ বছরের দীর্ঘ গবেষণা বলছে, বিষয়টি মোটেও এত সহজ নয়। বরং ঘরের কাজে অংশ নেওয়া এবং পরিবারে যত্নশীল সম্পর্ক পাওয়া শিশুর ভবিষ্যৎ সফলতা ও সুখের সবচেয়ে বড় পূর্বাভাস।

১৯৩৮ সালে শুরু হওয়া ‘হার্ভার্ড স্টাডি অব অ্যাডাল্ট ডেভেলপমেন্ট’ বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণাগুলোর একটি। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাটির নানা অংশ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাটির অন্যতম পরিচালক ড. রবার্ট ওয়াল্ডিং ২০১৫ সালে এক টেড টকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এরপর বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর ভবিষ্যৎ সুখী ও সফল হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু জন্মগত বুদ্ধিমত্তা, পরীক্ষার নম্বর বা সামাজিক অবস্থান বড় বিষয় নয়। বরং ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ব নেওয়া, ঘরের কাজে অংশ নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব শিশু ছোটবেলা থেকেই বাড়ির কাজে অংশ নেয়, তারা দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি, আত্মনির্ভরতা এবং নিজের উদ্যোগে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কনশিয়েনশিয়াসনেস’। এই গুণ পরবর্তী জীবনে কর্মক্ষেত্রের সফলতা, সুস্বাস্থ্য এবং জীবনের সন্তুষ্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

গবেষণায় আরও বলা হয়, ঘরের কাজ শিশুদের শেখায় কীভাবে পরিবার বা একটি দল একসঙ্গে কাজ করে। এতে সহানুভূতি, কৃতজ্ঞতা এবং মানসিক দৃঢ়তা তৈরি হয়। সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার মানসিক শক্তিও বাড়ে।

শুধু ঘরের কাজ নয়, শিশুর সঙ্গে প্রতিদিনের কিছু সময়ের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর, স্কুল থেকে ফেরার পর এবং ঘুমানোর আগের কয়েক মিনিট শিশুর আবেগগত নিরাপত্তা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে।

এছাড়া শিশুদের শুধু প্রতিভার প্রশংসা না করে তাদের চেষ্টা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে শিশুদের মধ্যে ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট’ তৈরি হয় এবং তারা ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে নতুনভাবে চেষ্টা করতে শেখে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, কর্মজীবী মায়ের সন্তানদের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। কর্মজীবী মায়ের মেয়েরা ভবিষ্যতে নেতৃত্বের জায়গায় বেশি দেখা যায় এবং ছেলেরা ঘরের কাজে বেশি অংশ নেয়।

গবেষকদের ভাষ্য, শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে দায়িত্ববোধ, সম্পর্ক, মানসিক বিকাশ এবং পারিবারিক শিক্ষার সমন্বয়ে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..