সর্বশেষ :
বিশ্ববাজারে রেকর্ড দেড় কোটি গাড়ি বিক্রি টয়োটার যুক্তরাষ্ট্রে এক গাড়ির দামে চীনে মিলে পাঁচ ইভি যুদ্ধ করল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, লাভ চীন-রাশিয়ার সুমুদ ফ্লোটিলা ও হরমুজের সৈন্যরা ‘এপস্টেইন ফ্রন্ট’ ইস্যুতে বিশ্বকে জাগিয়ে তুলবে : আইআরজিসি তরুণ প্রজন্মই পারে নতুন তথ্যব্যবস্থার সমাধান দিতে : তথ্যমন্ত্রী নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা বিমানবন্দরে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ, মুখ খুললেন ইরানি ফুটবলপ্রধান (দেখুন ভিডিও) বার্সেলোনায় নতুন চুক্তি করছেন ফ্লিক স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে খোলামেলা স্বীকারোক্তি দেবলীনার মদ ছেড়ে এখন জীবনের সেরা সময় পার করছেন টম হল্যান্ড

বেইজিংয়ে ড্রোন বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০২, | ১৮:৩৫:১৪ |
রাজধানী বেইজিংয়ে ড্রোন বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন সরকার। আজ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেইজিংয়ে ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ বিক্রি, ভাড়া দেওয়া বা বাইরে থেকে শহরে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। খবর বিবিসি।

নতুন আইন অনুযায়ী, ড্রোন মালিকদের তাদের ডিভাইসগুলো বাধ্যতামূলকভাবে পুলিশের কাছে নিবন্ধন করতে হবে। ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও থাকছে কড়াকড়ি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের আউটডোর ড্রোন ওড়াতে, অর্থাৎ ঘরের বাইরে ড্রোন ওড়ানোর জন্য আগে থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া ড্রোন ব্যবহারকারীদের অনলাইনে একটি প্রশিক্ষণ সেশন সম্পন্ন এবং সংশ্লিষ্ট আইন বিষয়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

ড্রোন ও ‘ফ্লাইং ট্যাক্সি’ প্রযুক্তিকে কৌশলগত ‘লো-অল্টিটিউড ইকোনমি’ বা নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে চীন সরকার।

২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাত থেকে দুই ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২৯০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যও রয়েছে দেশটির।

গত কয়েক বছর ধরেই ড্রোনের ব্যবহারে ধারাবাহিকভাবে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছে চীন। বেইজিংয়ের এ নতুন বিধিনিষেধ গত মার্চে অনুমোদিত হয়। ওই সময় নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নিম্ন-উচ্চতার আকাশসীমায় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ড্রোনের ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বেইজিং মিউনিসিপ্যাল পিপলস কংগ্রেসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শিয়ং জিংহুয়া জানিয়েছেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই এই নতুন আইনের মূল লক্ষ্য।

চীনের অনেক শহরে খাবার সরবরাহ, কৃষিকাজ এবং ভবন পরিষ্কারের কাজে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার থাকলেও বেইজিংয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যুটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, বেইজিং শহরের ভেতরে ড্রোন আনা বা বাইরে নেয়ার ক্ষেত্রে নিবন্ধনের প্রমাণ দেখাতে হবে। মেরামতের জন্য ড্রোন শহরের বাইরে পাঠালে, তা কুরিয়ারের বদলে মালিককে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সংগ্রহ করতে হবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবশ্য বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ড্রোন কেনা এবং এর ব্যবহারের ওপর ছাড় দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, জরুরি উদ্ধারকাজ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ড্রোন কেনা ও মজুদ রাখা যাবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারী বা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের জন্য এ সুযোগ রাখা হয়নি।

গত বছর বেইজিংয়ের সম্পূর্ণ আকাশসীমাকে ‘নো-ড্রোন জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া এই ব্যাপক বিধিনিষেধ চীনের বিশাল ড্রোন বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই নিয়ম ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবহারকারীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে নিবন্ধিত ড্রোনের সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজেআইয়ের সদর দপ্তরও এই দেশে।

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার শঙ্কায় বেইজিংয়ের ডিজেআই শোরুমগুলো থেকে ইতিমধ্যে ড্রোন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য সরিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..