✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

নামাজে প্রস্রাবের ফোঁটার সন্দেহ এলে কি করবেন?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৬, | ১৮:৫৩:১৫ |
ইবাদতের সময় একাগ্রতা নষ্ট করার জন্য শয়তানের অন্যতম হাতিয়ার হলো ‘ওয়াসওয়াসা’ বা মনের মধ্যে খটকা তৈরি করা। অনেক মুসল্লি প্রস্রাবপরবর্তী পবিত্রতা অর্জনের পর নামাজে দাঁড়ালে অনুভব করেন যে, শরীর থেকে হয়তো মূত্রফোঁটা নির্গত হয়েছে। বিশেষ করে রুকু বা সিজদায় গেলে এই সন্দেহ আরও প্রবল হয়। অথচ পরীক্ষা করলে কোনো আর্দ্রতা খুঁজে পাওয়া যায় না। এই নিরন্তর সংশয় মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে এবং নামাজের স্বাদ নষ্ট করে দেয়।

এই সমস্যার সমাধান স্বয়ং সাহাবিদের যুগেও আলোচিত হয়েছে। বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুর রাযযাকের ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে (বর্ণনা ৫৮৩) বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জনৈক ব্যক্তি তার এই সমস্যার কথা জানালে তিনি এক বৈপ্লবিক সমাধান দেন। তিনি তাকে নির্দেশ দেন যেন ওজু বা পবিত্রতা অর্জনের পর গোপনাঙ্গের আশপাশে এবং কাপড়ে কিছু পানি ছিটিয়ে দেয়। এর পর যদি কোনো আর্দ্রতা অনুভব হয়, তবে সে যেন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে— এটি নির্গত প্রস্রাব নয়, বরং ওই ছিটানো পানি।

ইসলামি ফিকহ বা আইনশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ যেমন- বাদায়েউস সানায়ে (১/১৪০), ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৯) এবং আলমুহীতুল বুরহানী (১/২১৮)-এ এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূলনীতি হলো— নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পবিত্রতা নষ্ট হয় না। অর্থাৎ, আপনি যদি নিশ্চিতভাবে প্রস্রাব বের হতে না দেখেন বা অনুভব না করেন, তবে কেবল কাল্পনিক সন্দেহের কারণে নামাজ ছাড়ার বা নতুন করে ওজু করার কোনো প্রয়োজন নেই।

করণীয় ও মানসিক দৃঢ়তা
১. ওজুর পর সংশয় দূর করতে পরিধেয় কাপড়ে সামান্য পানি ছিটিয়ে দিন।
২. নামাজে দাঁড়িয়ে বারবার পরীক্ষা করার বা খেয়াল করার প্রয়োজন নেই।
৩. এই খটকাকে শয়তানি ধোঁকা মনে করে মনে মনে তা প্রত্যাখ্যান করুন।

দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত। আল্লাহতায়ালা মানুষের সাধ্যাতীত কোনো বোঝা তার ওপর চাপিয়ে দেননি। সুতরাং ওয়াসওয়াসাকে প্রশ্রয় না দিয়ে একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ চালিয়ে যান। আপনার নামাজের শুদ্ধতা আল্লাহর রহমতের ওপর ন্যস্ত।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..