✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও মুনাফা নির্ধারণে যা লক্ষণীয়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১৬, | ১৮:২৪:৩৭ |
ইসলামি অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের মূল ভিত্তি হলো লাভ-ক্ষতির সঠিক বণ্টন। কিন্তু আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি সাধারণ ভুল হলো— বিনিয়োগকৃত মূল টাকার ওপর নির্দিষ্ট হারে মুনাফা (যেমন- ২০% বা ৩০%) নির্ধারণ করা। এই বিষয়টি ব্যবসায়িক চুক্তিকে 'ফাসেদ' বা ত্রুটিযুক্ত করে দেয়।

ব্যবসায় যখন কেউ টাকা খাটান এবং পূর্বেই শর্ত করেন যে, লাভ হোক বা লস, তাকে মূল টাকার একটি নির্দিষ্ট শতাংশ মুনাফা দিতে হবে, তখন সেটি আর বৈধ অংশীদারত্ব (মুদারাবা বা মুশারাকা) থাকে না। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, মুনাফা হতে হবে ব্যবসার অর্জিত লাভের ওপর ভিত্তি করে, মূল টাকার ওপর নয়।

যদি কোনো চুক্তি এমন ভুল শর্তে সম্পন্ন হয়ে যায়, তবে শরিয়তের ফয়সালা হলো:
১. বিনিয়োগকারীর পাওনা: যেহেতু পুরো টাকাটি আপনার ছিল এবং চুক্তিটি ত্রুটিযুক্ত হয়েছে, তাই এই এক বছরে ওই টাকা ব্যবহার করে মোট যে পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হয়েছে, তার সম্পূর্ণ অংশ আপনি পাবেন।

২. পরিচালকের পাওনা: আপনার বন্ধু যিনি শ্রম দিয়েছেন এবং ব্যবসা পরিচালনা করেছেন, তিনি পূর্বনির্ধারিত মুনাফা পাবেন না; বরং ওই ধরনের কাজে সাধারণত একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি যে পরিমাণ পারিশ্রমিক (উতরাতুল মিসল) পেয়ে থাকেন, তিনি সেই ন্যায্য পারিশ্রমিক বা বেতন পাবেন।

যদি পূর্বের শর্তানুযায়ী আপনাকে ২০,০০০ টাকা (মূলধনের ২০%) দিতে চান, তবে আপনার জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কারণ, সেই শর্তটি শুরু থেকেই ভুল ছিল। সঠিক পদ্ধতি হলো— ব্যবসায় মোট কত লাভ হয়েছে তা হিসাব করা। তার শ্রমের ন্যায্য মজুরি কেটে রাখার পর অবশিষ্ট লাভ আপনার হাতে বুঝিয়ে দেবেন।

লেনদেনে স্বচ্ছতা ও হালাল উপার্জন নিশ্চিত করতে আমাদের উচিত চুক্তির শুরুতেই বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নেওয়া। ভুল হয়ে গেলে তা সংশোধনের মাধ্যমেই উপার্জনে বরকত ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র:
কিতাবুল আছল, ইমাম মুহাম্মাদ ৪/১২৯
কিতাবুল আছার, বর্ণনা ৭৬৪
আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৪৫
আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/১২৬

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..