✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

শিশুকে কোরআনের প্রতি আগ্রহী করার ৬ উপায়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৩, | ১০:৫৭:৫২ |
মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য পবিত্র কোরআনের চেয়ে উত্তম মাধ্যম আর কিছুই হতে পারে না। কোরআন পড়ার সময় প্রায়ই আমাদের মনে হয়, যেন আল্লাহ সরাসরি আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন। কোরআন পাঠ আমাদের আল্লাহর পথে চলতে এবং তার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করতে সাহায্য করে। 

সুরা মায়েদাহর ১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি আলো এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে। যার মাধ্যমে আল্লাহ তার সন্তুষ্টি অর্জনকারীদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ ইচ্ছায় অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে আসেন।

আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে শিশুদের এই আধ্যাত্মিক পথ তৈরি করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোরআনের প্রতি শিশুদের আগ্রহী করে তুলতে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো—

১. নিজে উদাহরণ হয়ে উঠুন

শিশুরা সাধারণত যা দেখে তাই অনুকরণ করে শেখে। আপনি যদি চান আপনার সন্তান কোরআনের প্রতি অনুরাগী হোক, তবে আগে আপনাকে নিয়মিত কোরআন পড়ার অভ্যাস করতে হবে। আপনাকে কোরআন পড়তে দেখলে শিশুও স্বাভাবিকভাবে সেদিকে আকৃষ্ট হবে।

২. শোনা দিয়ে শুরু হোক পথচলা

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা তাদের পারিপার্শ্বিক শব্দ দিয়ে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। তাই ঘরে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত বাজানো হলে শিশুর কানে সেই ধ্বনি পরিচিত হয়ে ওঠে। ছোটবেলা থেকেই এই সুরের সঙ্গে পরিচিতি থাকলে বড় হওয়ার পর কোরআনের প্রতি তাদের সহজাত ভালোবাসা তৈরি হয়।

৩. প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে উৎসাহ প্রদান

শিশুরা প্রতিযোগিতা পছন্দ করে। বিভিন্ন কোরআন তিলাওয়াত বা হিফজ প্রতিযোগিতায় তাদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করুন। এক্ষেত্রে শুধু মুখস্থ নয়, বরং কোরআনের মূল বিষয়বস্তু ও নৈতিক শিক্ষাগুলো সহজভাবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার বা ইতিবাচক প্রশংসা শিশুদের শিখতে আরও আগ্রহী করে তোলে।

৪. ব্যক্তিগত মুসহাফ বা কোরআন শরিফ উপহার দিন

সন্তানকে তার নিজের জন্য একটি সুন্দর মলাটের কোরআন শরিফ বা মুসহাফ উপহার দিন। যখন একটি শিশুর নিজস্ব কপি থাকে, তখন তার মধ্যে মালিকানাবোধ কাজ করে। এটি তাকে নিয়মিত কোরআন স্পর্শ করতে এবং পড়তে উৎসাহিত করবে।

৫. নৈতিক শিক্ষায় কোরআনের আয়াত ব্যবহার করুন

আমরা সন্তানদের ঘর পরিষ্কার রাখা, বিছানা গোছানো কিংবা সততা ও শিষ্টাচারের শিক্ষা দিয়ে থাকি। এসব ক্ষেত্রে যদি আমরা কোরআনের রেফারেন্স ব্যবহার করি, তবে তা আরও কার্যকর হয়। যেমন, সন্তান যখন সত্য কথা বলবে, তখন তাকে সুরা মায়েদার ১১৯ নম্বর আয়াতের কথা শুনিয়ে দিন, যেখানে আল্লাহ সত্যবাদীদের পুরস্কারের কথা বলেছেন। এতে তারা বুঝতে পারবে যে ভালো কাজের ভিত্তি মূলত কোরআন।

৬. গল্পের ছলে কোরআনের শিক্ষা

পবিত্র কোরআনে এমন অনেক শিক্ষণীয় গল্প আছে যা শিশুদের কল্পনাশক্তিকে নাড়া দেয়। কোরআনের বিভিন্ন প্রাণীর গল্প, যেমন—আবরাহার হাতি, আসহাবে কাহাফের কুকুর, ইউনুস (আ.)-এর মাছ কিংবা সুলাইমান (আ.)-এর পিঁপড়া ও হুদহুদ পাখির কাহিনীগুলো তাদের শোনান। 

বাজারে শিশুদের উপযোগী সচিত্র কোরআনের গল্পের বই পাওয়া যায়, যা তাদের এই পবিত্র গ্রন্থের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।

সন্তানদের জন্য আমাদের সবচেয়ে বড় উপহার হবে তাদের ঈমান এবং আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা দিয়ে যাওয়া। আর কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছাড়া এটি সম্ভব নয়। তাই সন্তান যত ছোটই হোক না কেন, আজ থেকেই তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের একটি আত্মিক বন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করুন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..