বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এ উদ্যোগের ফলে পেট্রল ও ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক হ্রাস করা হয়েছে।
এর ফলে পেট্রলের ওপর শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে ৩ টাকায় নেমে এসেছে, আর ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তবে এ শুল্ক কমানোর সুফল সাধারণ মানুষ সরাসরি কতটা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তে সাধারণ ভোক্তারা সরাসরি খুব বেশি সুবিধা পাবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত দেশটির তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (ওএমসি) আর্থিক চাপ কমাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
ভারত বিভিন্ন দেশ থেকে যে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার ওপর সরকার অন্তঃশুল্ক আরোপ করে থাকে।
গত বছর মোদি সরকার এ শুল্ক বৃদ্ধি করেছিল। বর্তমানে বৈশ্বিক সংঘাতজনিত পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে অনেক বেড়ে গেলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এর ফলে তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতেই শুল্ক কমানোর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই ভারত এ পথে হেঁটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশটিতেও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শুল্ক কমানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। প্রথমত, অন্য দেশের মতো ভারতেও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া; দ্বিতীয়ত, আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে দেশবাসীকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। মোদি সরকার দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছে বলে তিনি জানান।
এ জাতীয় আরো খবর..