বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধরত ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মাত্র দুই দিন আগে বলেছিলেন ‘বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় দলকে স্বাগত জানাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই তাঁর কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থেই ইরান ফুটবল দলের বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্র আসা ঠিক হবে না। এর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। আয়োজক আমেরিকাকেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
ট্রুথ সোশ্যালে বৃহস্পতিবার দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প অবশ্য ইরানকে স্বাগত জানিয়েই শুরু করেন, ‘বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে স্বাগতম। তবে আমি সত্যিই বিশ্বাস করি না যে, তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য এখানে আসা ঠিক হবে।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। বলেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে তাদের কেউ বাদ দিতে পারবে না। গত বৃহস্পতিবার ইরান জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া বিবৃতিতে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে, ‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আয়োজক। এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা, কোনো ব্যক্তি বা দেশ নয়। ইরানের সাহসী ফুটবলারদের শক্তি ও ধারাবাহিকভাবে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে ইরান জাতীয় দল এ বড় টুর্নামেন্টে সবার আগে যোগ্যতা অর্জন করা দেশগুলোর একটি। নিশ্চিতভাবে কেউ ইরান জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারবে না। বরং বাদ পড়তে পারে সেই দেশ, যারা শুধু “আয়োজক” নামটি বহন করে কিন্তু বৈশ্বিক আসরে অংশ নেওয়া দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নেই।’
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে চলেছে। এ যুদ্ধের প্রভাবে পুরো বিশ্ব টালমাটাল। স্বাভাবিকভাবে বিশ্বকাপ ফুটবলেও এর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। এবারের আসরের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের বিশ্বকাপ খেলা না খেলা নিয়ে অনেক মন্তব্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে গত বুধবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ফিফা সভাপতি জানান, ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং ইতিবাচক সমাধান মিলেছে। ইনফান্তিনোর এই ঘোষণার পরই ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিশ্বকাপ না খেলার ঘোষণা দেন। এরপর ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেল।
এ জাতীয় আরো খবর..