সর্বশেষ :
অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের : তারেক রহমান আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা : প্রধানমন্ত্রী ‘সাউন্ড বাইট’ থেকে ‘মোর জাম্প’- প্রথমদিনে মন্ত্রীরা যা বললেন রমজান উপলক্ষ্যে স্কুল ছুটি বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষকতা থেকে রাজপথ, নয়া সরকারের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হলেন মির্জা ফখরুল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিন বারের এমপি পানি সম্পদ মন্ত্রী এ্যানির বর্ণাঢ্য জীবন দেশের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র থেকে পূর্ণমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বানে জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে, আজ পূর্ণ মন্ত্রী বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানিকগঞ্জে আনন্দ, ঢাকার পাশের তিন জেলার ‘মুখ ভার’

একমাত্র মানিকগঞ্জের আফরোজা খানম রীতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-১৮, | ১১:২৭:০৪ |

রাজধানীর পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা বরাবরই বিএনপি মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন। এবারই এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। এই তিন জেলার দুটি ছাড়া সব আসনেই ধানের শীষ জয়ী হয়েছে। কিন্তু ১১ জন দলীয় এমপির কাউকেই নবগঠিত মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। শুধু রাজধানীর পাশের আরেক জেলা মানিকগঞ্জ থেকে নির্বাচিত আফরোজা খানম রিতা মন্ত্রী হয়েছেন।

‎সংখ্যা ও সময়ের হিসাবে নারায়ণগঞ্জ সবচেয়ে বেশি মন্ত্রিত্ব পেয়েছিল বিএনপির আমলেই। কিন্তু এবার দলটি মন্ত্রিসভা গঠন করলেও এ জেলা বঞ্চিত হয়েছে। ফলে এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ে তৈরি হয়েছে হতাশা। রাজধানীর কাছের এ জেলার বিশিষ্টজনরা বলছেন, রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ শীর্ষস্থানে থাকলেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সব সময় পিছিয়ে থাকে। মন্ত্রিত্ব পেলে নারায়ণগঞ্জবাসীর সে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা হয়তো মিটত।

‎বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও দেশের প্রথম সরকারে নারায়ণগঞ্জের কোনো মন্ত্রী ছিল না। এমনকি ২০১৯ সালের আগপর্যন্ত আওয়ামী লীগের সরকারে নারায়ণগঞ্জের কোনো মন্ত্রী ছিলেন না।
‎নারায়ণগঞ্জ থেকে কোনো নেতা প্রথম মন্ত্রিসভায় স্থান পান এরশাদ সরকারের সময়ে ১৯৮৫ সালে। সে সময় নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির নেতা এম এ সাত্তার প্রথমে বস্ত্রমন্ত্রী, এক বছর পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং চিফ হুইপ ও রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা হন।

‎১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন চৌধুরী। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময়ে তিনি বস্ত্রমন্ত্রী হন। এ সরকারে সোনারগাঁ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম প্রথমে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হন।

তবে এবার বিএনপি বিপুল বিজয় অর্জন করে মন্ত্রিসভা গঠন করলেও সেখানে নারায়ণগঞ্জ থেকে কারও ঠাঁই হয়নি। নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় যে কয়টি জেলা করে থাকে, তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের স্থানে রয়েছে। একইভাবে ট্যাক্স প্রদানকারী জেলার মধ্যেও নারায়ণগঞ্জ প্রতিবছর এক দুই তিনের মধ্যে থাকে। সে তুলনায় নারায়ণগঞ্জে  উন্নয়ন কর্মকাণ্ড খুব কম হয়। নারায়ণগঞ্জে কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেই, নেই মেডিকেল কলেজ। ইন্টার লেভেলেও ভালো কলেজ নেই। নেই ভালো রাস্তাঘাট। এমনিভাবে প্রতিটি সেক্টরে নারায়ণগঞ্জে উন্নয়নের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। একজন মন্ত্রী থাকলে তিনি এসব চাহিদার কথা সরাসরি মন্ত্রিসভায় বলে বরাদ্দ নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু মন্ত্রী না থাকলে এমপিদের গিয়ে মন্ত্রীর কাছে ধরনা দিতে হয়। অনেক সময় তারা বরাদ্দ আনতে পারেন, অনেক সময় পারেন না। তাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল নারায়ণগঞ্জ থেকে মন্ত্রিসভায় একজন মন্ত্রী ঠাঁই পাবেন।


একই রকম প্রত্যাশা তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ অর্থনৈতিক বিবেচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। ঢাকার পাশে অবস্থান হওয়ায় এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল নারায়ণগঞ্জ থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন আমাদের কথাগুলো তুলে ধরার জন্য। কিন্তু সেটি হয়নি। তবে আমরা আশা ছাড়িনি। আজকে না পেলেও অচিরেই আমরা নারায়ণগঞ্জের একজন মন্ত্রী পাব বলে আশা রাখি।

শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উন্নতির জন্যও নারায়ণগঞ্জের একজন মন্ত্রী থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মণি সুপান্থ। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে অডিটোরিয়ামের সংকট রয়েছে। জিয়া হল বহু বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠান করতে গেলে বিপুল খরচ লাগে। একজন মন্ত্রী থাকলে এসব সমস্যা সমাধান করা সহজ। তাই নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা ছিল বর্তমান মন্ত্রিসভায় নারায়ণগঞ্জের একজন মন্ত্রী। 

আগে মন্ত্রী পেলেও এবার নেই গাজীপুরে
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যের। রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশাও ছিল বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় জেলার কোনো সংসদ সদস্য ঠাঁই পাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকে জায়গা দেওয়া হয়নি ওই তালিকায়। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, শিগগিরই মন্ত্রিসভার আকার বড় হবে এবং গাজীপুর থেকে অন্তত দুজন সংসদ সদস্যকে ওই তালিকায় রাখা হবে।


বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত এর আগের সব সরকারের মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের কেউ না কেউ ছিলেন। ১৯৮৯ সালে চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীকে বাণিজ্যমন্ত্রী করা হয়। ১৯৯১ সালে অধ্যাপক এম মান্নানকে করা হয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। একই সময় ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নান শাহকে করা হয় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলেও গাজীপুরে কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। 


গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গাজীপুর-৫ আসন থেকে জয়ী এ কে এম ফজলুল হক মিলন ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর-৩ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর নামও শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় তাদের ঠাঁই হয়নি। 

খালেদা জিয়ার আমলে ছিলেন একাধিক মন্ত্রী 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় নেই মুন্সীগঞ্জ। অথচ বরবারই এ জেলা থেকে বিএনপি মন্ত্রী করেছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর মুন্সীগঞ্জে টিঅ্যান্ডটি মন্ত্রী হন প্রয়াত এম শামছুল ইসলাম। অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে করা হয় সরকারির দলের সংসদ উপনেতা। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে প্রয়াত অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এম শামসুল ইসলামকে ভূমি, তথ্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী করা হয়। মিজানুর রহমান সিনহাকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়। একই মন্ত্রিসভায় আব্দুল হাইকে উপমন্ত্রী করা হয়।

এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মুন্সীগঞ্জ মন্ত্রিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর টেকনোক্র্যাট কোঠায় ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরাকে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়।


রিতার মন্ত্রিত্বে উচ্ছ্বাস মানিকগঞ্জে
ঢাকার পাশের একমাত্র মানিকগঞ্জই মন্ত্রী পেয়েছে। মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে জয়ী বিএনপির এমপি আফরোজা খানম রিতা বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ খবরে এ আসনের মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। 
আফরোজা খানম রিতার বাবা হারুণার রশিদ খান মুন্নু এ আসন থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। শেষ নির্বাচনের পর তাঁকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়েছিল। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে 
রেখে যাওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করে গেছেন রিতা। তাঁর এই দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে মানিকগঞ্জবাসী পেল একজন পূর্ণ মন্ত্রী।


সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের নির্যাতন জেল জুলুম সহ্য করে আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে জেল থেকে মুক্ত করেছেন। তাদের পরিবারের সঙ্গে খোঁজখবর রেখেছেন। জেলখানায় নেতাকর্মীদের উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করতেন। যে কারণে মানিকগঞ্জের নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি হয়ে উঠেছেন বিএনপির কাণ্ডারি। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। 

সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার বলেন, মানিকগঞ্জের তিন আসনের মধ্যে মানিকগঞ্জ-৩ আসনটি অনেক গুরুপ্তপূর্ণ। তাই দলের নীতিনির্ধারকরা সেটি বিবেচনা করেন এবং ১৭ বছর দলকে তিনি এক ছাতার নিচে রেখেছিলেন বলেই তার ফসল আজ সাটুরিয়াবাসী পেয়েছে।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা)

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...