ফুটবল মাঠে তিনি ছিলেন অতন্দ্র গোলপ্রহরী। খেলোয়াড়-পরবর্তী জীবনে রাজনীতির রাজপথে এসে বিএনপির তরুণ নেতা হিসাবে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে জেল-জুলুম, অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করেছেন।
জাতীয় ফুটবল দলের সেই সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জিততে না পারলেও বিএনপি সরকারের ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন ‘নেতা’ আমিনুল ৩৪তম ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদ ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হলেন।
বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে গোলপোস্টের নিচে আস্থার প্রতীক আমিনুলে জাতীয় ফুটবল দলে দীর্ঘদিন খেলেছেন। জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল।
এই সময়ে তিনি প্রায় ৫৪টি ফিফা স্বীকৃত ম্যাচসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ক্লাব ফুটবলেও তিনি ছিলেন সমান উজ্জ্বল। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান এসসি, ঢাকা আবাহনী ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলেছেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসাধারণ সেভ ও নেতৃত্বগুণে দলকে একাধিক শিরোপা জিতিয়েছেন। বিশেষ করে ২০০২ ও ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে তার নজরকাড়া পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে এখনো উজ্জ্বল। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি যুক্ত হন রাজনীতিতে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর ‘টেকনোক্র্যাট’ হিসাবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে তিনি এখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। মাঠ থেকে রাজনীতির পাঠশালায় ভর্তি হওয়া, মন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব পালন করার নজির অতীতেও দেখা গেছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম এবং আরিফ খান জয় এর আগে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
এ জাতীয় আরো খবর..