এশায় বিতর পড়ে নিলে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া যাবে?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-১৬, | ২০:৩৬:৩৪ |
সালাত বা নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয়। এটি অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা সালাত (নামাজ) পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)

অন্যদিকে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা খোদ মহান আল্লাহ তা’আলার কাছেও প্রিয় একটি আমল। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রা.) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)


এ ক্ষেত্রে দিনের শেষ ওয়াক্ত এশায় ফরজ আদায়ের পর সুন্নতের পাশাপাশি বিতরের নামাজ আদায় করতে হয়। প্রায় অন্য ফরজ নামাজের মতো এটি হলেও নিয়মের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। এজন্য দুই রাকাত নামাজ পড়ে প্রথম বৈঠকে বসতে হয় এবং তাশাহহুদ পড়তে হয়। পরে সালাম না ফিরিয়েই তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে সুরা ফাতিহা পড়তে হয়। এরপর অন্য কোনো সুরা মেলানোর পর তাকবির বলে দুই হাত কান পর্যন্ত উঠাতে হয়। তারপর তাকবিরে তাহরিমার মতো হাত বেঁধে দোয়া কুনুত পড়তে হয়। এরপর আগের মতো রুকু ও সিজদা সম্পন্ন করে শেষে তাশাহহুদ, দরুদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।


হাদিস অনুযায়ী, কারও তাহাজ্জুদ পড়ার ইচ্ছে থাকলে তাকে এশার নামাজ আদায়ের পর বিতরের নামাজ বাকি রাখতে হবে, যা তাহাজ্জুদ আদায়ের পর উপরের নিয়মে আদায় করে নিতে হবে। কারণ, রাসুল (সা.) বিতরের নামাজকে রাতের শেষ সালাত হিসেবে রাখতে বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত (নামাজ) করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৪৪)

আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, হে কুরআনের অনুসারীগণ! তোমরা বিতরের নামাজ আদায় করো। কেননা আল্লাহ তা’আলা বেজোড় (একক), কাজেই তিনি বেজোড়কে (বিতর) ভালোবাসেন। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৪১৬)

অন্যদিকে খোদ রাসুল (সা.)-ও বিতরকে রাতের শেষ নামাজ হিসেবে রাখতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাত (রাতের নামাজ) আদায় করতেন, তখন আমি তার বিছানায় আড়াআড়িভাবে ঘুমিয়ে থাকতাম। এরপর তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমিও বিতর আদায় করে নিতাম। (সহিহ বুখারি, ৯৪৩)

তবে প্রশ্ন হলো- এশার সালাতে বিতরের নামাজ পড়ে ফেলার পর তাহাজ্জুদ পড়া যাবে? ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কারও যদি তাহাজ্জুদের সময় জাগার সম্ভাবনা না থাকে এবং তিনি যদি এশার সময় বিতরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যান সে ক্ষেত্রে রাতে ঘুম ভাঙলে তাহাজ্জুদ পড়ে নিতে পারবেন। যদিও নিয়মিত এমন না করাই উত্তম।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...