মজান আত্মশুদ্ধি ও আত্মিক প্রশান্তির মাস; কিন্তু সদ্য মা হওয়া নারীদের জন্য এ সময়টা একটু বেশি সচেতনতার দাবি রাখে। কারণ, আপনার শরীর এখন শুধু নিজের জন্য কাজ করছে না—নবজাতক শিশুর পুষ্টিও নির্ভর করছে আপনার ওপর। তাই রোজা রাখার আগে এবং রোজাকালীন সময় মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে কিছু বিশেষ যত্নবিধি জানা জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন আগে
রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে যদি কোনো ঝুঁকি থাকে, তাহলে রোজা না রাখাই হতে পারে মা ও শিশুর জন্য নিরাপদ। নিজের শারীরিক অবস্থা ও শিশুর প্রয়োজন বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।
সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন
সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর, সুষম খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেহরিতে প্রোটিন (ডিম, ডাল, দুধ), জটিল কার্বোহাইড্রেট (লাল চাল, ওটস) ও ফল রাখলে দীর্ঘ সময় শক্তি বজায় থাকে। ইফতারে পর্যাপ্ত পানি, ফল, দই ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে শরীর দ্রুত পুষ্টি ফিরে পায় এবং হজম সহজ হয়। অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
হাইড্রেশন নিশ্চিত করুন
দীর্ঘ সময় পানি না পান করার ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকে। ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে পর্যাপ্ত সাদা পানি পান করুন। চা, কফি বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়ের বদলে সাধারণ পানি ও প্রাকৃতিক তরল গ্রহণ করুন, যাতে শরীর পর্যাপ্তভাবে হাইড্রেটেড থাকে।
বিশ্রামে গুরুত্ব দিন
রোজার সময় শরীরের শক্তি সংরক্ষণ জরুরি। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, ভারী কাজ বা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। ক্লান্তি বেশি অনুভূত হলে বিশ্রাম নিন। শরীরের ভাষা বুঝে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা
যদি আপনি নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ান, তাহলে পুষ্টি ও পানির ঘাটতি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ইফতার ও সেহরির পর শিশুকে বারবার দুধ খাওয়ানো দুধের পরিমাণ বজায় রাখতে সহায়ক।
যদি লক্ষ্য করেন দুধের পরিমাণ কমে যাচ্ছে বা শিশুর স্বাস্থ্যে নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে, তাহলে রোজা ভাঙার বিষয়টি বিবেচনা করুন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন
মাথাব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা বমিভাব—এসব লক্ষণকে অবহেলা করবেন না। শরীরের সংকেতই বলে দেয় কখন বিরতি প্রয়োজন। প্রয়োজনে রোজা না রাখাই উত্তম।
রমজানের উদ্দেশ্য আত্মিক উন্নতি ও সংযমের চর্চা। তবে ইসলাম কখনোই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে ইবাদত করার নির্দেশ দেয় না। মা ও শিশুর সুস্থতা সবার আগে বিবেচ্য। যদি রোজা রাখার ফলে শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে পরবর্তীতে কাজা করার সুযোগ রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে নতুন মায়েরা রোজার সময়ও নিজের ও সন্তানের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: জনস হপকিন্স আরামকো হেলথকেয়ার
এ জাতীয় আরো খবর..