যুব নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জেরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার পতনের পর আগামী ৫ মার্চ নতুন সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন নেপালের জনগণ। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হচ্ছে। এএফপির প্রতিবেদনে এ খবর বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় তিন কোটি মানুষের এই হিমালয়ঘেরা দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডে হাজারো তরুণ কর্মীর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই প্রথম তার নাম সামনে আসে।
ভোটের মাধ্যমে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদ গঠিত হবে। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ জন দলীয় তালিকা থেকে নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন শেষে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই নেপালের রাজনীতিতে প্রবীণ নেতাদের প্রাধান্য। এদের অনেকেই ২০০৬ সালে শেষ হওয়া দশ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময় মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এখনো কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর নেতৃত্বে আছেন।
আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল বিভিন্ন কমিউনিস্ট গোষ্ঠীকে একত্র করে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের প্রাচীনতম দল নেপালি কংগ্রেস জানুয়ারিতে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে নেতা নির্বাচিত করেছে, যার মাধ্যমে পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার দীর্ঘ নেতৃত্বের অবসান ঘটে।
২০০৮ সালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ এখনো কাঠমাণ্ডুতে অবস্থান করছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি (আরপিপি)-এর মাধ্যমে কিছু সমর্থন ধরে রেখেছেন। প্রবীণ নেতৃত্বের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কয়েকজন আলোচিত প্রার্থীও মাঠে নেমেছেন। টেলিভিশন উপস্থাপক রবি লামিছানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিকে (আরএসপি), যা ২০২২ সালে সংসদের চতুর্থ বৃহত্তম শক্তি হয়ে ওঠে।
তিনি জোট গড়েছেন র্যাপার থেকে মেয়র হওয়া বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে, যিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হয়ে ওলির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়ছেন। আরেক আলোচিত প্রার্থী কুলমান ঘিসিং, যিনি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় ভূমিকার জন্য পরিচিত। সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেন জেড প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাদের অন্যতম সুদান গুরুং।
তরুণ ভোটারদের বড় অংশ অর্থনৈতিক সংস্কার চায়। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের শ্রমশক্তির প্রায় ৮২ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং ২০২৪ সালে মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১ হাজার ৪৪৭ ডলার।
অর্থনৈতিক চাপে লাখো নেপালি বিদেশে কাজ করতে গেছেন। সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী, জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বিদেশে বসবাস করেন। যদিও প্রবাসীরা এবার ভোট দিতে পারবেন না, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির মোট জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত নেপালের এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই দেশই কাঠমাণ্ডুতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে আগ্রহী।