মাদুরোর আমলে সুইজারল্যান্ডের কাছে ১১৩ টন স্বর্ণ বিক্রি, বেরিয়ে এলো রহস্য

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-০৭, | ১৩:৪৮:৪২ |
নিকোলা মাদুরোর শাসনামলের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলা থেকে সুইজারল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাচার করা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডের শুল্ক দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ওই সময়ে প্রায় ৫২০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ সুইজারল্যান্ডে পাঠিয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে মাদুরো ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ১১৩ টন স্বর্ণ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছায়। সুইজারল্যান্ডের সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফ জানিয়েছে, এই স্বর্ণের উৎস ছিল ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন দেশটির অর্থনীতি চরম সংকটের মুখে ছিল, আর সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার স্বর্ণের মজুত বিক্রি করে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছিল।

তবে ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই চিত্র বদলে যায়। শুল্ক তথ্য বলছে, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা থেকে সুইজারল্যান্ডে আর কোনো স্বর্ণ রপ্তানি হয়নি। 

উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোকে বন্দি করে ধরে নিয়ে যায়। বর্তমানে মাদক পাচার ও নারকো-টেররিজমের অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি আদালতে তার বিচার চলছে।

এদিকে গত সোমবার সুইজারল্যান্ড সরকার মাদুরো এবং তার ৩৬ জন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নামে থাকা সব সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই সম্পদের পরিমাণ কত কিংবা এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই স্বণ্যের কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কিনা, সে বিষয়ে সুইজারল্যান্ড এখনো মুখ খোলেনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভেনেজুয়েলা তাদের রিজার্ভের স্বর্ণ মূলত প্রক্রিয়াকরণ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য সুইজারল্যান্ডে পাঠিয়েছিল। কারণ, সুইজারল্যান্ড হলো বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্বর্ণ পরিশোধন কেন্দ্র, যেখানে পাঁচটি বড় রিফাইনারি রয়েছে। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়ে ও বৈদেশিক মুদ্রা জোগাড় করতে গিয়ে ভেনেজুয়েলা তাদের এই মহামূল্যবান সম্পদ হাতছাড়া করতে বাধ্য হয়।

বাজার বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল জানান, ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভেনেজুয়েলা একপ্রকার মরিয়া হয়েই স্বর্ণ বিক্রি করেছিল। যার বড় একটি অংশ সুইজারল্যান্ডে যায়। পরবর্তী সময়ে এই স্বর্ণ হয়তো বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেছে কিংবা ছোট বার হিসেবে এশিয়া বা বিশ্বের অন্য বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

রোনা ও’কনেল বলেন, তবে ২০১৮ সালে সুইজারল্যান্ডও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়ায় এই বাণিজ্যিক পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ও’কনেল মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বড় বিষয় হলো—তত দিনে ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের ভান্ডার সম্ভবত একেবারেই ফুরিয়ে গিয়েছিল।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...