স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের আটকাতে ইসিতে জামায়াতের প্রস্তাব

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৮, | ১৮:০২:৩১ |
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারেনি কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায়। তবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকবিহীন ও নির্দলীয় হওয়ায়, তাতে অংশ নিতে বাধা নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দটি নেতাকর্মীদের। কিন্তু এখন দলটির নেতাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা–কর্মীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় যুক্ত করত হবে, এই প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবকে দেওয়া এক চিঠিতে এই প্রস্তাব জানায়। ইসি সচিবালয়ের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরের বছর দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপর ইসি আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করায় গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

বর্তমান সরকার আগামী অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভোটের পরিকল্পনা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা ওঠে। কেননা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেউ অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নানা মত আসার পটভূমিতে সম্প্রতি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংসদে এই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এর কোনো স্পষ্ট জবাব আসেনি। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে না। সে কারণে নির্বাচনের খসড়া আচরণ বিধিমালা প্রস্তুত করে তার ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চায় ইসি। সেই মতামত জানিয়ে দেওয়া চিঠিতেই আওয়ামী লীগের কারও এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতে ইসলামী আরও যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো হলো—নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হলেও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, এটি নিষিদ্ধ করার বিধান সংযোজন; স্থানীয় সরকার প্রশাসনে নিযুক্ত কোনো প্রশাসক বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পদে নিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করা; নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..