ফকল্যান্ড ইস্যুতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মধ্যে উত্তেজনা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৭, | ২০:১৮:৩৪ |

বিশ্বকাপের শেষ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। জয়ের পর আটলান্টা স্টেডিয়ামে আনন্দ উদযাপন করেন মেসিরা। এ সময় ফুটবলাররা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের মালিকানার দাবির বিষয়ে মাঠে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন।

এর মধ্যে দিয়ে তারা দ্বীপপুঞ্জটির ওপর আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্বের দাবিটি আবারও বিশ্বের বুকে তুলে ধরে। যা ১৯৮২ সালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে এক সশস্ত্র যুদ্ধের মূল কারণ ছিল। ব্যানারটি প্রদর্শনের পর থেকে আবারও উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার(১৬ জুলাই) ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল ওই ব্যানার প্রদর্শনকে ফিফার নিয়মের ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান। এরপর বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইলের আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানায়।

ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন, বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, তবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিশ্চিতভাবেই আমাদের। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিশ্চিতভাবেই আমাদের। ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি কখনোই টলবে না।

আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েলও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার। তারা স্টেডিয়ামে এগুলো (ব্যানার বা স্লোগান) নিয়ে আসায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, কিন্তু ভুলে গিয়েছিল যে আমরা এগুলো আমাদের রক্ত ​​ও হৃদয়ে ধারণ করি। ব্রিটিশরা এই ব্যানার নিয়ে তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।

বিবিসি ব্রেকফাস্টকে কাইল বলেন, আমার মনে হয় নিশ্চিতভাবেই হবে; কারণ ফুটবলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না চালানোর যে নিয়ম রয়েছে, তার চরম লঙ্ঘন ছিল এটি।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী” বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। যেকোনো ধরনের লঙ্ঘনের জন্য সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় অথবা দলের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষ জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অথবা ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা একই বার্তা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করায় ফিফা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করেছিল।ফাইনালের আগে এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণের আগে ফিফা ম্যাচের প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে। এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, তারা ম্যাচের প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি বর্তমানে ম্যাচের প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করছে এবং প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি বিবেচনা করছে। এরপর ফিফার শৃঙ্খলা রক্ষা বিধিমালার ভিত্তিতে পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..