সড়ক সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ

রাস্তায় কাদার মধ্যেই ধানের চারা রোপণ!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১২, | ১৮:৪৫:৩৮ |
সড়ক নাকি ধানের খেত—বোঝার উপায় নেই! চারদিকে শুধু থকথকে কাদা আর হাঁটুসমান পানি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের খাজরা বাজার থেকে আমাদী খেয়াঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার সড়কটি এখন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। আর এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতিবাদে এবার এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থীরা। ভাঙাচোরা সড়কের সেই কাদার মধ্যেই ধানের চারা রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খাজরা বাজার ও আমাদী খেয়াঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মধ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশ এখনো পুরোপুরি কাঁচা। বর্ষার শুরুতেই এই ৩ কিলোমিটার সড়ক কাদা, খানাখন্দ আর জলাবদ্ধতায় সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদাময় জলাশয়ে পরিণত হয়। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইক প্রতিনিয়ত উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যুবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে রাস্তা দিয়ে মানুষ স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেই পারে না, সেখানে ধান চাষ করাই তো শ্রেয়। দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি উপেক্ষিত হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদাপানি মাড়িয়ে যথাসময়ে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না।

সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয় ঘটছে চিকিৎসাক্ষেত্রে। স্থানীয়রা জানান, প্রসূতি ও মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি মুহূর্তে আশাশুনি ও জায়গীরমহল হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

​এ বিষয়ে ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান গাইন বলেন, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার পথ। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয় ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, জনগণ সুযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। রাস্তাটির দ্রুত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

​এ বিষয়ে  খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করে বলেন, এটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সড়ক। সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।

​এদিকে বিষয়ের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—তারা আর কোনো মৌখিক ‘আশ্বাস’ বা ফাইলবন্দি উন্নয়ন চান না, বরং অনতিবিলম্বে রাস্তায় ‘দৃশ্যমান সংস্কারকাজ’ দেখতে চান। বর্ষা মৌসুম আরও তীব্র রূপ নেওয়ার আগেই এই নরকযন্ত্রণার স্থায়ী অবসান ঘটাতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..