✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১২, | ১৫:০১:০১ |ফুটবলে কখনও কখনও কয়েক মিনিটই বদলে দেয় পুরো ম্যাচের গল্প, বদলে দেয় একজন ফুটবলারের পরিচয়ও। কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলোর রাতটাও ছিল ঠিক তেমনই। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের অন্যতম নায়ক থেকে সবচেয়ে আলোচিত চরিত্রে পরিণত হন তিনি।
৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের সমতাসূচক গোলের সূচনা হয়েছিল এম্বোলোর পা থেকেই। দুর্দান্ত বিল্ডআপে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভেঙে রিকার্ডো রদ্রিগেসকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। রদ্রিগেসের ক্রস থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান এনদোয়ে। সেই মুহূর্তে ম্যাচের গতি যেন পুরোপুরি সুইসদের দিকেই ঝুঁকে পড়েছিল।
কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস স্থায়ী হয় মাত্র পাঁচ মিনিট।
৭২ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে মাটিতে পড়ে যান এম্বোলো। প্রথম দেখায় ঘটনাটিকে ফাউল মনে করে আর্জেন্টিনার পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনহেইরো।
তবে ভিএআরের পর্যালোচনায় উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। রিপ্লেতে দেখা যায়, পারেদেসের সঙ্গে এম্বোলোর কোনো সংস্পর্শই হয়নি। এরপর নিজের সিদ্ধান্ত বদলে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করেন রেফারি। বদলে সিমুলেশনের দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয় এম্বোলোকে।
প্রথমার্ধেই একটি হলুদ কার্ড দেখা এম্বোলোর জন্য সেটিই ছিল দ্বিতীয় সতর্কবার্তা। ফলে নিয়ম অনুযায়ী লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস এই ফরোয়ার্ডকে। সমতায় ফেরার পর যে দলটি জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল, মুহূর্তেই তারা নেমে আসে ১০ জনে।
লাল কার্ড দেখার পর হতাশায় ভেঙে পড়েন এম্বোলো। দুই হাতে মুখ ঢেকে চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করলেও হতাশা আড়াল করতে পারেননি। ডাগআউটের দিকে তার ধীর পায়ে হাঁটা যেন সুইজারল্যান্ডের ভেঙে যাওয়া স্বপ্নেরই প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। আর ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকে এম্বোলোর সেই পাঁচ মিনিট, যে পাঁচ মিনিটে তিনি দলের প্রত্যাবর্তনের অন্যতম নায়ক থেকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে ট্র্যাজিক চরিত্রে পরিণত হন।