শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে চলে আসা ঐতিহ্য মেনে মঙ্গলবার, ১৫ মহররম (৩০ জুন) পবিত্র কাবা শরিফের বার্ষিক ধোয়ার আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে কাবার অভ্যন্তরীণ দেয়াল জমজমের পবিত্র পানি ও গোলাপপানির মিশ্রণে ধোয়া হবে। এই বিশেষ মিশ্রণটি আগে থেকেই দুই পবিত্র মসজিদ বিষয়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত করেন।
পবিত্র কাবা ধোয়ার এই প্রথা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণে পালিত হয়ে আসছে। কাবার দেয়াল পরিষ্কার করতে বিশেষ তোয়ালে ব্যবহার করা হয়। ভেতরের দেয়াল সাদা কাপড়ে গোলাপ ও মেশকের সুগন্ধি লাগিয়ে মুছে দেওয়া হয়। এছাড়া গোলাপের সুগন্ধি মেশানো জমজমের পানি মেঝেতে ছিটিয়ে তা হাত ও খেজুর পাতার সাহায্যে পরিষ্কার করা হয়।
পবিত্র কাবা ধোয়ার এই অনুষ্ঠান মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম)-সংক্রান্ত অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ধর্মীয় ঐতিহ্য। এটি মুসলিমদের কাছে কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক এবং ইসলামের সর্বপবিত্র এই স্থানটির প্রতি অব্যাহত যত্ন ও সংরক্ষণের প্রতিফলন। যুগ যুগ ধরে কাবা শরিফই বিশ্বের মুসলমানদের কিবলা।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য কাবা শরিফের প্রতি সম্মান ও ভক্তির বহিঃপ্রকাশ। এটি বিশ্বের মুসলমানদের হৃদয়ে কাবার কেন্দ্রীয় অবস্থান এবং এর গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানের জন্য কাবা শরিফের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এরপর এর অভ্যন্তরীণ দেয়াল, মেঝে ও স্তম্ভ অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পরিষ্কার করা হয়। এর মাধ্যমে কাবার ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা হয়, যা ইসলামী ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই অনুষ্ঠান মুসলিমদের জন্য বিশেষ আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে এটি মসজিদুল হারামের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, কিসওয়া এবং অন্যান্য সুবিধাসমূহের যত্ন ও সংরক্ষণের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন, যাতে এর পবিত্র মর্যাদা সর্বোচ্চভাবে বজায় থাকে।
কাবা ধোয়ার এই অনুষ্ঠান দুই পবিত্র মসজিদ এবং সেখানে আগত মুসল্লিদের সেবায় পরিচালিত বছরব্যাপী কার্যক্রমের একটি অংশ। সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে মসজিদুল হারামের পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এটি সুপরিকল্পিত সাংগঠনিক ও কারিগরি ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
প্রথমে কাবার অভ্যন্তর প্রস্তুত করা হয়। এরপর জমজমের পানি, গোলাপানি এবং উৎকৃষ্ট সুগন্ধির মিশ্রণে এর দেয়াল, মেঝে ও স্তম্ভ ধোয়া হয়। শেষে উৎকৃষ্ট মানের ধূপ ও সুগন্ধি তেল দিয়ে কাবার অভ্যন্তর সুগন্ধিময় করা হয়, যা এই বার্ষিক অনুষ্ঠানের প্রতি প্রদর্শিত বিশেষ যত্ন ও সম্মানের প্রতীক।
বার্ষিক কাবা ধোয়ার এই অনুষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মসজিদুল হারামের প্রতি অব্যাহত যত্ন ও সেবার ধারাবাহিকতাকেও তুলে ধরে। এটি মুসলিম উম্মাহর কিবলার সঙ্গে তাদের অটুট সম্পর্ক এবং পবিত্র কাবার প্রতি বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যবদ্ধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক।
সূত্র: সৌদি গ্যাজেট
এ জাতীয় আরো খবর..