✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-৩০, | ১৭:০৪:২৭ |বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল জার্মানির দুঃসময় যেন কাটছেই না। একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চে আধিপত্য বিস্তার করা চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন টানা তিন আসরে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ২০২৬ বিশ্বকাপেও শেষ বত্রিশ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে আরও গভীর হয়েছে জার্মান ফুটবলের সংকট।
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই ছন্দ হারাতে শুরু করে জার্মানি। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। এবার কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দুর্দান্ত সূচনা করলেও নকআউট পর্বের প্রথম বাধাই পেরোতে পারেনি তারা।
ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে সমতায় থাকা ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুর লড়াইয়ে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। আর হতাশায় ডুবে যায় জার্মানি।
ম্যাচ শেষে জার্মানি কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান নিজের হতাশা লুকাননি। তিনি স্বীকার করেন, ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে জার্মানি এখন আর ফুটবলের প্রথম সারির দল নয়। তাঁর ভাষায়, টানা তিনটি বড় আসরে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়া জার্মান ফুটবলের মানের সঙ্গে যায় না।
তবে অতিরিক্ত সময়ে ভিএআরের মাধ্যমে জোনাথান টাহর হেড থেকে করা গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাগলসমান। তার দাবি, সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়ে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়ে জার্মানিকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি। টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তাদের সমর্থকেরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি তাদের অন্যতম স্মরণীয় জয় হয়ে থাকবে।
জার্মানির সাবেক তারকা ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান এই হারকে বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের একাংশ ইতোমধ্যে নাগলসমানের পদত্যাগ দাবি করলেও এখনই তিনি দায়িত্ব ছাড়তে রাজি নন। জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চাইলে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন নাগলসমান। তার মতে, বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন পরিকল্পনা ও নতুন পথ খুঁজতে হবে।
একসময় বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ংকর দল হিসেবে পরিচিত জার্মানি এখন টানা ব্যর্থতার ভারে ন্যুব্জ। সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে কবে আবার বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা- সেই অপেক্ষা আরও বাড়লো।