সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান অপরাধ করলে শুধু সে-ই নয়, বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে তার বাবা-মা বা অভিভাবকরাও আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে পারেন। তবে আইন অনুযায়ী সন্তানের অপরাধের জন্য অভিভাবকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয় না।
রোববার (২৮ জুন) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, অনেক অভিভাবক মনে করেন অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের কর্মকাণ্ডের দায় তাদের ওপর বর্তায় না। কিন্তু বাস্তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
আইনজীবী আসমা সিদ্দিকীর মতে, যদি কোনো অভিভাবকের নিজের আচরণই অপরাধের পর্যায়ে পড়ে—যেমন সন্তানের প্রতি অবহেলা, তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা, অপরাধে উৎসাহ দেওয়া বা আদালতের নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হওয়া—তাহলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে দেওয়ানি আইনের আওতায়, সন্তানের কারণে অন্য কারও ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক ব্যক্তি সন্তানের সৃষ্ট ক্ষতির জন্য আর্থিকভাবে দায়ী হতে পারেন।
তবে এই দায় স্বয়ংক্রিয় নয়। অভিভাবকরা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তারা সন্তানের যথাযথ তদারকি করেছেন, তাহলে তারা দায়মুক্তি পেতে পারেন বলেও জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি আল আইনের একটি দেওয়ানি আদালত এক ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্কের অভিভাবককে তিন হাজার দিরহাম ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকির অভিযোগ উঠেছিল।
আইন অনুযায়ী, কোনো শিশু যদি ১২ বছরের কম বয়সী হয়, তাহলে তাকে ফৌজদারি অপরাধের জন্য দায়ী করা যায় না। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি কৌঁসুলি তার জন্য পুনর্বাসন, নজরদারি বা সমাজসেবামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ফৌজদারি দায় থেকে অব্যাহতি পেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ অভিভাবকের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে অবহেলা বা আইন লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা বা কারাদণ্ডও হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, অভিভাবকদের সন্তানের আচরণ, অনলাইন কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়মিত নজর রাখা জরুরি, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যায়।
সূত্র: খালিজ টাইমস
এ জাতীয় আরো খবর..