বিবিসি-র প্রতিবেদন

কিম জং উনের সবচেয়ে গোপন রহস্য তার মায়ের পরিচয়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৮, | ১৪:১৬:৩৩ |
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ঘিরে নানা রহস্যের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো তার মায়ের পরিচয়। ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ বছরে একবারও জনসমক্ষে নিজের মা কো ইয়ং হুইয়ের নাম উচ্চারণ করেননি তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থা ও ‘বিশুদ্ধ রক্তধারা’র প্রচারণা টিকিয়ে রাখতেই এ পরিচয় আড়ালে রাখা হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মতাদর্শে শাসক পরিবারের ‘মাউন্ট প্যাকতু’ রক্তধারাকে পবিত্র ও বিশুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে কিম জং উনের মা কো ইয়ং হুই ১৯৫২ সালে জাপানের ওসাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের বাসিন্দা ছিলেন এবং জাপানে বসবাসকারী কোরীয় সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পরবর্তীতে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় পরিবারটি উত্তর কোরিয়ায় ফিরে এলেও, বিদেশফেরত হওয়ায় তারা দেশটির কঠোর সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসে নিচু মর্যাদার ‘জ্যায়েপো’ হিসেবে বিবেচিত হন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পটভূমির কারণে কো ইয়ং হুইয়ের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া উত্তর কোরিয়ার প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তবে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করার সময় কো ইয়ং হুইয়ের সঙ্গে তৎকালীন নেতা কিম জং ইলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের তিন সন্তানের একজন ছিলেন কিম জং উন। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে দীর্ঘ সময় কো ও তার সন্তানদের জনসম্মুখ থেকে দূরে রাখা হয় এবং কিম ইল সুং জীবিত থাকাকালে তাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেওয়া হয়নি।

২০০৪ সালে কো ইয়ং হুই ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকার প্রশ্নে পরিবর্তন আসে। কিম জং ইলের অন্য সন্তানদের বিভিন্ন কারণে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেওয়া হলে ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন কিম জং উন।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের মায়ের সামাজিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক এড়াতেই কিম জং উন কখনো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন না। এমনকি তার জন্মদিনও জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হয় না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই তথ্য ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেলে উত্তর কোরিয়ার বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..