আশুরার রোজার মর্যাদা ও নিয়ম

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৫, | ১৪:০৭:১৩ |

ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এই মাসের দশম দিনকে বলা হয় ‘আশুরা’। আরবি ‘আশারা’ শব্দ থেকে ‘আশুরা’ শব্দের উত্পত্তি, যার অর্থ দশ বা দশম। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি বহু তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনার স্মারক। ইসলামী শরিয়ত রোজার বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে আশুরার মর্যাদা ও গুরুত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে। আশুরার রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। যা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে আশুরা পবিত্র চার মাসের অন্যতম। যে চার মাস সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে মাস গণনায় মাস ১২টি। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৬)

সম্মানিত মাস আশুরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো, আশুরার রোজা। এর গুরুত্ব সম্পর্কে আবু কাতাদা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

মদিনায় হিজরতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) দেখেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখে। কারণ এ দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফিরআউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। তখন নবী (সা.) বলেন, ‘মুসার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৬৮০)

এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে নির্দেশ দেন। তবে ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার শিক্ষা দেয়। তাই জীবনের শেষ দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি আগামী বছর পর্যন্ত জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই নবম তারিখও রোজা রাখব।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)

এই হাদিসের আলোকে ফকিহরা বলেন, আশুরার রোজার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখা। কেউ চাইলে ১০ ও ১১ মহররমও রোজা রাখতে পারেন। আর কেবল ১০ মহররমে একটি রোজা রাখলেও সুন্নত আদায় হবে, যদিও দুই দিন রাখা উত্তম।

আশুরার রোজা শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; এটি ত্যাগ, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষাও দেয়। একই সঙ্গে এ দিন মুসলিম উম্মাহকে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার যে মহান আদর্শ তিনি রেখে গেছেন, তা যুগে যুগে মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করে আসছে। আশুরার রোজার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর নৈকট্য লাভ, গুনাহের ক্ষমা এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ লাভ করতে পারেন। তাই এ দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে যথাযথভাবে রোজা পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।

আল্লাহ সবাইকে আশুরার রোজা নিয়ম মেনে রাখার তাওফিক দিন। আমিন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..