ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতবে, এটা খোদ ব্রাজিলিয়ানরাই বিশ্বাস করে না!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৬, | ১৮:৪০:২৩ |

প্রথম ম্যাচেই ড্র, হতাশা না হলেও আশার কথা নয়; ব্রাজিলের রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জয়ের মিশন তাই কিছুটা ফিকে। ফুটবলপাগল এই দেশটির হেক্সা জয়ের স্বপ্ন অবশ্য এবার এক বিশাল পরীক্ষা আর নজিরবিহীন চাপের মুখে দাঁড়িয়ে। ২০০২ সালে শেষবার বিশ্বজয়ের পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কেবলই হতাশায় পুড়েছে সেলেসাওরা। ২০০৬ ও ২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়, ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেই অবিশ্বাস্য ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক বিপর্যয় এবং এরপর ২০১৮ ও ২০২২ সালের আসরে আবারও শেষ আট থেকে বিদায়; সব মিলিয়ে ব্রাজিলের বর্তমান প্রজন্মের একটা বড় অংশ তাদের দেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে দেখেনি।

অথচ অতীতের সোনালি প্রজন্মগুলোর গল্প আজীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন ব্রাজিলিয়ানরা। ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেলের জাদুকরী উত্থান, ১৯৬২ সালে গারিঞ্চার দুর্দান্ত নৈপুণ্য, ১৯৭০ সালে মেক্সিকোর আকাশে পেলের সেই অমর সুন্দর ফুটবল কিংবা ১৯৯৪ সালে রোমারিওর হাত ধরে ২৪ বছরের খরা কাটানোর রূপকথা; সব গল্পই এখন বর্তমান দলের কাঁধে এক বিশাল পাহাড়সম প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, মাঠ ও মাঠের বাইরের নানা কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ব্রাজিলের ওপর এবার দেশের মানুষের আস্থা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৯ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান বিশ্বাস করেন যে তাদের দল এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে।

এই চরম অনাস্থার পেছনে অবশ্য যথেষ্ট কারণ রয়েছে। গত বছরই ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিকে আদালতের নির্দেশে পদচ্যুত হতে হয়, যার প্রভাব পড়ে মাঠের পারফরম্যান্সেও। বাছাইপর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ৪-১ গোলের লজ্জাজনক হারসহ নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে সময় পার করে ব্রাজিল। তবে সেই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচ দরিভাল জুনিয়রকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় অভিজ্ঞ রিয়াল মাদ্রিদ বস কার্লো আনচেলত্তিকে। আনচেলত্তির অধীনে দল কিছুটা গুছিয়ে উঠলেও তাদের সামনে সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক বাধা ইউরোপের দলগুলো। ২০০২ সালের ফাইনালের পর নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় পরাশক্তিকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল।

এবার ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের মূল কাণ্ডারি ভাবা হচ্ছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে। পেলের 'সুন্দর ফুটবল' কিংবা রোনালদো-রোমারিওর সেই চেনা শৈলী এখন ভিনির পায়েই খুঁজছে ভক্তরা। ২৪ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা নিজেও দল পরিচালনা করার এবং ব্রাজিলকে ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে নেওয়ার এই বিশাল দায়িত্ব আনন্দের সঙ্গে মেনে নিয়েছেন। 

অন্যদিকে, সবাইকে চমকে দিয়ে আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের দলে জায়গা করে নিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী ইনজুরি-জর্জরিত নেইমার জুনিয়র। ২০১৪ সালের সেই অভিশপ্ত সেমিফাইনালে চোটের কারণে খেলতে না পারা নেইমার হয়তো এবারই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে ভাগ্য বদলাতে নামবেন। মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করা ব্রাজিলের প্রতি সাবেক কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের কেবল একটিই বার্তা; ভালোবাসা নিয়ে খেলো এবং ইতিহাসের অংশ হয়ে যাও।

সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..