✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১০, | ১২:৫০:৪৭ |২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের জমকালো উদ্বোধনী ম্যাচে বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হবে, তখন কেবল গ্যালারির ৮০ হাজারেরও বেশি উন্মাতাল দর্শকই মেক্সিকোর শক্তির উৎস হবে না। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মেক্সিকো সিটির আকাশছোঁয়া উচ্চতা এবং পাতলা বাতাসই হতে পারে এই ম্যাচে স্বাগতিকদের সবচেয়ে বড় গোপন অস্ত্র।
খেলাটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুপুরের কড়া রোদ দুই দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক সহনশীলতার চরম পরীক্ষা নেবে। তবে সব ছাপিয়ে মূল আলোচনায় উঠে এসেছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ ফুটেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত এস্তাদিও আসতেকার ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্ব ফুটবলের খুব কম স্টেডিয়ামই এমন চরম উচ্চতায় অবস্থিত। এই ধরনের পরিবেশে অভ্যস্ত না হলে ফুটবলাররা খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক বেড়ে যায় এবং আধুনিক ফুটবলের গতিময়তা ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই চেনা পরিবেশকে নিজেদের জন্য দারুণ এক প্লাস পয়েন্ট বলে মনে করছেন মেক্সিকান ফুটবল কমিশনার মিকেল আররিওলা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছিলেন যে, নিজেদের মাঠ, ঘরের দর্শক এবং এই উচ্চতা মেক্সিকোকে এক বিশাল সুবিধা এনে দেবে। ইতিহাসও মেক্সিকোর এই বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলে। ঘরের মাঠে মেক্সিকোর আগের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সগুলো ছিল দুর্দান্ত, যার মধ্যে ১৯৮৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্মৃতি অন্যতম।
ক্রীড়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই উচ্চতার সাথে মানিয়ে নিতে মানবদেহের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন, যাতে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পায় এবং অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। এই সময়ের অভাবে খেলোয়াড়রা মাঠে দ্রুত দম হারিয়ে ফেলেন। আর এই চ্যালেঞ্জকে বেশ গুরুত্বের সাথেই নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকো সিটির প্রতিকূলতার জবাব দিতে তারা তাদের অনুশীলন ক্যাম্প গেড়েছে মেক্সিকোরই আরেক শহর পাচুকাতে, যার উচ্চতা মেক্সিকো সিটির চেয়েও বেশি, প্রায় ৮ হাজার ফুট।
শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাই নয়, গ্রুপ পর্বের অন্যান্য দল যেমন দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটিতে উচ্চতা-প্রস্তুতি সেরেছে। অন্যদিকে কলম্বিয়াও নিজেদের ম্যাচগুলোর আগে বোগোতার পাহাড়ি অঞ্চলেই অবস্থান করছে। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কুবেক স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপের মতো ঠাসা সূচিতে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় তাদের হাতে নেই। প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মেক্সিকোর এই প্রাকৃতিক সুবিধা কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।