✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৯, | ২০:০৮:২৮ |চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দলে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা ডেক্লান রাইসের মতো বিশ্বমানের তারকারা থাকায় থ্রি লায়নসদের এবারের অন্যতম ফেবারিট ভাবা হচ্ছে। তবে একটু ভাবুন তো, যদি এমন হতো যে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার যোগ্যতা থাকা প্রতিটি বিশ্বসেরা ফুটবলারই এই বিশ্বকাপে সাদা জার্সি গায়ে জড়াতেন? উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপে এমন বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার মাঠ মাতাচ্ছেন, যারা চাইলেই ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা বেছে নিয়েছেন অন্য দেশ।
এই তালিকার সবচেয়ে বড় নাম নিঃসন্দেহে ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতি ম্যাচে গড়ে একের বেশি গোল করা এই স্ট্রাইকার আসলে জন্মসূত্রে ইংলিশ হতে পারতেন। হালান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডের লিডসে, যখন তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন। তবে মাত্র তিন বছর বয়সেই তারা নরওয়েতে ফিরে যান এবং হালান্ড সবসময় নিজেকে নরওয়েজিয়ান হিসেবেই ভেবেছেন। সাবেক ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেটও একবার স্বীকার করেছিলেন যে, হালান্ড তরুণ বয়স থেকেই নরওয়ের যুব দলে এত চমৎকারভাবে জড়িয়ে ছিলেন যে তাকে ইংল্যান্ড দলে আনার কোনো সুযোগই ছিল না।
ইংলিশদের জন্য একই রকম আক্ষেপের নাম জামাল মুসিয়ালা। বায়ার্ন মিউনিখের এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার জার্মানির বয়সভিত্তিক দলে খেলার আগে আসলে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দল পর্যন্ত খেলেছেন, যেখানে তার সতীর্থ ছিলেন জুড বেলিংহ্যাম। চেলসি থেকে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর তৎকালীন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো এবং বায়ার্ন সতীর্থদের অনুরোধে মুসিয়ালা তার জন্মভূমি জার্মানিকে বেছে নেন। বর্তমান ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন রসিকতা করে বলেছিলেন, তিনি যদি আরও আগে বায়ার্নে যোগ দিতেন, তবে হয়তো মুসিয়ালাকে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য রাজি করাতে পারতেন।
আরেক বায়ার্ন তারকা মাইকেল অলিসেও হতে পারতেন ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের অন্যতম অস্ত্র। লন্ডনে জন্ম নেওয়া এই উইঙ্গারের সামনে নাইজেরিয়া, ফ্রান্স, আলজেরিয়া ও ইংল্যান্ড; এই চারটি দেশের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল। ক্রিস্টাল প্যালেসে দুর্দান্ত পারফর্ম করার সময় ইংল্যান্ড তাকে দলে ভেড়ানোর আশা করলেও অলিসে ফ্রান্সের প্রতি তার আবেগের টানে লে ব্লুজদের বেছে নেন।
অন্যদিকে, ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলিকে স্কুদেত্তো জেতাতে বড় ভূমিকা রাখা স্কট ম্যাকটমিনে জন্ম নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাস্টারে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালীন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন এবং হোসে মরিনহোর পরামর্শে তিনি বাবার দেশ স্কটল্যান্ডকে বেছে নেন। প্রায় ২৮ বছর পর স্কটল্যান্ড যে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে, তার পেছনে ম্যাকটমিনের গোলের অবদান আকাশচুম্বী।
যুক্তরাষ্ট্র দলের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের গল্পটাও একই রকম। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া বালোগান শৈশব কাটিয়েছেন ইংল্যান্ডে। দুই দেশের হয়েই যুব পর্যায়ে খেলার পর ২০২৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। একইভাবে লন্ডনে জন্ম নেওয়া আন্টোয়ান সেমেনিয়ো বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলছেন। তবে তরুণ বয়সে ইংল্যান্ডের নজরে না আসায় তিনি ঘানা জাতীয় দলকে বেছে নেন এবং এই বিশ্বকাপেই তিনি তার জন্মভূমির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।
ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরো জয়ী দলের অন্যতম নায়ক কার্নি চুকুয়েমেকা বর্তমানে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলছেন। ভিয়েনায় জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডারকে ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডের জার্সিতে দেখার আশা থাকলেও তিনি সম্প্রতি রালফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া দলে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ঘটিয়েছেন।
সবশেষে বলা যায় অ্যারন ওয়ান-বিসাকার কথা। ইংল্যান্ড দলে কাইল ওয়াকার, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড এবং রেইস জেমসের মতো একঝাঁক তারকা রাইট-ব্যাক থাকায় ক্রিস্টাল প্যালেস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই ডিফেন্ডারের ইংল্যান্ডের মূল দলে সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি ডিআর কঙ্গোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন, যারা আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ পেরিয়ে এবার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।
সূত্র: গোলডটকম