✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-০৮, | ১৩:৩১:২৮ |ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জমকালো ফুটবল আসর হতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। এবারই প্রথম যৌথভাবে তিনটি দেশ—কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র—জুড়ে মোট ১৬টি শহরে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আগের ৩২টি দলের ফরম্যাট ভেঙে এবার রেকর্ড ৪৮টি দল এই বৈশ্বিক মঞ্চে লড়াইয়ে নামবে।
আয়োজকদের দাবি, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপের রেকর্ড ‘৩৫ লাখ দর্শক সমাগম’ এবার ছাড়িয়ে যাবে, যদিও টিকিট বিক্রির ধীর গতি কিছুটা ভিন্ন আভাস দিচ্ছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগে চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপের ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় পরিসংখ্যান:
কার ঝুলিতে কতটি শিরোপা?
ব্রাজিল (৫ বার): ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ এবং ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বজায় রেখেছে সেলেসাওরা। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে খেলা একমাত্র দল তারা।
জার্মানি ও ইতালি (৪ বার করে): দুই দলই ৪টি করে শিরোপা জিতেছে। তবে ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবার জার্মানির সামনে সুযোগ থাকছে ব্রাজিলকে ছুঁয়ে ফেলার।
ব্যক্তিগত রেকর্ড: ফুটবল সম্রাট পেলে ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি তিনটি বিশ্বকাপ (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০) জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা কে?
মিরোস্লাভ ক্লোসা (জার্মানি) — ১৬ গোল: ৪টি বিশ্বকাপে মোট ২৪টি ম্যাচ খেলে এই জার্মান স্ট্রাইকার তালিকার শীর্ষে আছেন।
অন্যান্য শীর্ষ গোলদাতারা:
রোনালদো (ব্রাজিল): ৪ বিশ্বকাপে ১৯ ম্যাচে ১৫ গোল।
গার্ড মুলার (পশ্চিম জার্মানি): ২ বিশ্বকাপে ১৩ ম্যাচে ১৪ গোল।
জাস্ট ফন্টেইন (ফ্রান্স): মাত্র ১টি বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ১৩ গোল!
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৫ বিশ্বকাপে ২৬ ম্যাচে ১৩ গোল।
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ২ বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল।
পেলে (ব্রাজিল): ৪ বিশ্বকাপে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল।
একক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড কার?
জাস্ট ফন্টেইন (১৩ গোল): ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ড মাত্র ৬ ম্যাচে রেকর্ড ১৩টি গোল করেছিলেন, যা আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি।
এ ছাড়া হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোকসিস ১৯৫৪ সালে ১১টি এবং জার্মানির গার্ড মুলার ১৯৭০ সালে ১০টি গোল করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে সর্বোচ্চ ৮টি গোল করেন।
বয়সের রেকর্ড: তরুণ বনাম অভিজ্ঞ তুর্কি
সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড়: মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তার বয়স হবে মাত্র ১৭ বছর ২৪০ দিন। তিনি ১৫ বছর বয়সে মেক্সিকান ফার্স্ট ডিভিশনে গোল করে এবং ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড় আছেন ২২ জন।
সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়: স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন (৪৩ বছর ১৬২ দিন)। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের অল-টাইম রেকর্ডটি মিশরের এসাম এল-হাদারির (৪৫ বছর, ২০১৮ বিশ্বকাপ)।
বিশ্বকাপ মাতাতে আসা অন্য প্রবীণ তারকারা:
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল): ৪১ বছর (৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ)
গুইলারমো ওচোয়া (মেক্সিকো): ৪০ বছর (৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ)
ম্যানুয়েল নয়্যার (জার্মানি): ৪০ বছর (৫ম বিশ্বকাপ)
লুকা মড্রিচ (ক্রোয়েশিয়া): ৪০ বছর (৫ম বিশ্বকাপ)
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৩৮ বছর (৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ)
বিশ্বকাপ ২০২৬: দল ও স্কোয়াডের কিছু মজার তথ্য
নবাগত দল ৪টি: কেপ ভার্দে, উজবেকিস্তান, জর্ডান এবং কুরাসাও—এই ৪টি দেশ এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবে। ২০০৬ সালের (৮টি দল) পর এবারই সবচেয়ে বেশি নতুন দল অংশ নিচ্ছে।
ধনকুবের ফুটবলার: আল-নাসর তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ১.৪ বিলিয়ন ডলারের নেট ওয়ার্থ (সম্পদ) নিয়ে এবারের আসরের সবচেয়ে ধনী ফুটবলার।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড: আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি বিশ্বকাপে রেকর্ড ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন।
কনিষ্ঠ ও বয়স্ক স্কোয়াড: গড়ে ২৫.৪৮ বছর বয়স নিয়ে আইভরি কোস্ট এবারের সবচেয়ে তরুণ স্কোয়াড এবং গড়ে ২৯.৯৮ বছর বয়স নিয়ে কলম্বিয়া সবচেয়ে অভিজ্ঞ বা বয়স্ক স্কোয়াড।
প্রবাসী বনাম ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়: কেপ ভার্দে, কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও, সেনেগাল এবং উরুগুয়ের স্কোয়াডের সকল খেলোয়াড়ই বিদেশি লিগে খেলেন (ঘরোয়া লিগের শূন্য খেলোয়াড়)। বিপরীতে কাতার এবং সৌদি আরবের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৫ জনই খেলেন নিজেদের দেশের ঘরোয়া লিগে।
প্রাইজমানি এবং বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্ব
সর্বমোট প্রাইজ পুল: $৭২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (রেকর্ড)
চ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কার: $৫০ মিলিয়ন ডলার
অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের নিশ্চিত আয়: অন্তত $১০.৫ মিলিয়ন ডলার
(উল্লেখ্য, ২০২২ বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ৪৪০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন ডলার।)
ক্ষুদ্রতম দেশ: নবাগত কুরাসাও। মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোয়ালিফাই করা সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ক্লাব প্রতিনিধিত্ব: এবারের বিশ্বকাপে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি থেকে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। এরপরেই রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ (১৮ জন), পিএসজি (১৬ জন), আর্সেনাল (১৬ জন) এবং বার্সেলোনা (১৫ জন)।
সূত্র: আলজাজিরা