✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৭, | ১৩:৫০:৪৫ |হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধের মধ্যে ভারত, চীন, কাতার ও ইরাকের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান।
বিনিময়ে ভারত থেকে ওষুধ, চীনের রাজনৈতিক সমর্থন এবং ভারত ও চীনা জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি পাওয়ার আশা করছে তেহরান। আর কাতারের জাহাজকে বিনা শুল্কে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের এমন সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোঘাদ্দাম ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, এই চার দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোতে বাধা দিচ্ছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চাপে থাকা ইরানের জন্য এই ব্যবস্থা অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।
চীন ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ কিনে থাকে। ফলে চীনা জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দিয়ে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি ভারত ও কাতারকে ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কৌশলের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা করছে তেহরান।
হরমুজ প্রণালির ওপর এই চার দেশের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাও অনেক বেশি। গত অক্টোবরে প্রণালিটি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দৈনিক ১ কোটি ২৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। এর প্রায় ৪২ শতাংশ গেছে চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে।
অন্যদিকে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানির জন্যও এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ইরানের ছাড় পাওয়া জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়িয়ে চলতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের অবস্থানের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দর থেকে আসা বা সেখানে যাওয়া সব দেশের জাহাজই অবরোধের আওতায় থাকবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন জাহাজের চলাচলে বাধা নেই। খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক সহায়তাও তল্লাশির পর প্রবেশের অনুমতি পেতে পারে।
এদিকে ইরানের এই সিদ্ধান্তে আপাতত আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বাজারের মূল মনোযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার দিকে।
তবে ছাড়ের নিশ্চয়তা থাকলেও জাহাজ চলাচল পুরোপুরি নিরাপদ নয়। গত ৩০ অক্টোবর উপসাগরে কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়েদা’ অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে ১২০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা। সূত্র: আল-জাজিরা