✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৭, | ১৩:৪১:০৭ |ভারতের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবসরের কথা জানান ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার।
২০১৩ সালের নভেম্বরে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল শামির। অভিষেক ম্যাচেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি। নিখুঁত লাইন ও লেংথে বল করার পাশাপাশি বলের সিম সোজা রাখার অসাধারণ দক্ষতা ছিল তার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১৮ রানে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন শামি। এখনো সেটিই টেস্ট ক্রিকেটে তার সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। বিশেষ করে রিভার্স সুইংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাস্তানাবুদ করেছিলেন তিনি।
ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্ট খেলেছেন শামি। শিকার করেছেন ২২৯ উইকেট। ভারতের টেস্ট ইতিহাসে পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় তার অবস্থান ষষ্ঠ।
টেস্ট অভিষেকের ১৩ বছর পূর্তির দিনে নিজের বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে শামি বলেন, 'এই ১৩ বছরের যাত্রায় এই ক্যাপ, এই বলই আমাকে মোহাম্মদ শামি বানিয়েছে। এই সময়ে অনেক উত্থান-পতন এসেছে। আমি পড়ে গেছি, আঘাত পেয়েছি, চোটে পড়েছি। কিন্তু এই ব্যাজের জন্য প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'এই ১৩ বছরের যাত্রা ছিল অসাধারণ। আমার কোচ, প্রশিক্ষক, ফিজিও এবং যারা সামান্য হলেও অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।'
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শামি বলেন, 'বিশেষ করে ক্রিকেটপ্রেমী সমর্থকদের ধন্যবাদ। তারা আমাকে যে পরিচিতি দিয়েছেন, যে ভালোবাসা ও উৎসাহ দিয়েছেন, তা সব সময় মনে থাকবে। আপনাদের সবার প্রতি আমার সবচেয়ে বড় কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসাতেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছেছি। ৬ নভেম্বর আমি এই টেস্ট ক্যাপ পেয়েছিলাম, আজও ৬ নভেম্বর। তাই আজই এই ১৩ বছরের যাত্রার ইতি টানতে চাই। এই দিনেই অভিষেক হয়েছিল, আর এই দিনেই অবসর নিচ্ছি।'
তবে ক্রিকেটকে পুরোপুরি বিদায় জানাচ্ছেন না শামি। সীমিত ওভারের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমি টেস্ট ক্রিকেট ছাড়ছি। তবে আইপিএল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে সাদা বলের খেলা চালিয়ে যাব। ফিটনেসের প্রয়োজনে কয়েক দিনের ক্রিকেটও খেলতে পারি। তবে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে আর ফিরছি না। আজ যে যাত্রা শুরু করেছিলাম, আজই তার সমাপ্তি টানছি।'
২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ছিল ভারতের হয়ে শামির সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশ কিছু স্মরণীয় কীর্তি গড়েছেন তিনি। মজার বিষয় হলো, পেসার হয়েও ঘরের মাঠে তার পারফরম্যান্স ছিল বেশি উজ্জ্বল। ভারতের অধিকাংশ উইকেট স্পিনারদের অনুকূলে থাকলেও শামি নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন।
আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রথম ইনিংসের তুলনায় দ্বিতীয় ইনিংসে তাকে অনেক বেশি ভয়ংকর মনে হতো। এর পেছনে তার বোলিংয়ের ধরনও ভূমিকা রেখেছে। তিনি মূলত স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করতেন। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পথে অ্যালিস্টার কুকের স্টাম্প ভেঙে দুই টুকরো করে দিয়েছিলেন শামি।
তার শিকার করা উইকেটের প্রায় ৪৫ শতাংশই এসেছে বোল্ড ও এলবিডব্লিউ থেকে। ৬৪ টেস্টের মধ্যে ভারত জিতেছে ৩১টি, ড্র করেছে ১৩টি। দেশের মাটিতে শামির খেলা কোনো সিরিজ হারেনি ভারত।
টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ২৭.৭১ গড় ও ৫০.২ স্ট্রাইক রেটে। ভারতের মাটিতে তার বোলিং গড় ২২.১, প্রতি ৪২.৬ বলে পেয়েছেন একটি করে উইকেট। ঘরের মাঠে স্ট্রাইক রেটের হিসাবে ভারতের মাত্র তিনজন বোলার তার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
২০২৫ সালের মার্চে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালের পর থেকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি শামি। চোট ও শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি পেসারদের ক্যারিয়ারে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শামির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একপর্যায়ে তাকে ছাড়াই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করে ভারতীয় দলের ব্যবস্থাপনা।
উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের আমরোহায় জন্ম শামির। উন্নত ক্রিকেটের সুযোগ পেতে একসময় বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমান বাংলায়। ২০১০ সালের নভেম্বরে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় তার। এখনো বাংলা দলের হয়ে খেলছেন তিনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দলের সর্বশেষ ম্যাচেও ছিলেন এই পেসার।
আইপিএলে শামি খেলেন লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে। ২০২৭ সালের আইপিএল নিলামের আগে আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে ১০টি দলকে নিজেদের ধরে রাখা ও ছেড়ে দেওয়া খেলোয়াড়দের তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে। ফলে শামির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হবে।