✕


ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৭, | ১৩:৩৯:৩০ |

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি, শিক্ষা ও সরকারি সেবার সংকট ঘিরে গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে বড় ধরনের ধর্মঘট ও বিক্ষোভের পর আজ শনিবার আবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক ও বিভিন্ন আন্দোলনকারী সংগঠনের সদস্যরা।

রাজধানী প্যারিসে স্থানীয় সময় শনিবার বেলা দুইটায় দুটি পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিক ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর যৌথ মিছিলের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শুধু প্যারিস নয়, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ও সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে শনিবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও জনজীবনে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শ্রমিক ধর্মঘট ও বিক্ষোভে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। বেতন বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা, সরকারি সেবায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র একটি দিনের বিক্ষোভে সারাদেশে ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন ৬৫ হাজার।

অপরদিকে শ্রমিক সংগঠন সিজিটির দাবি, দেশজুড়ে তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ। সংগঠনটির হিসাবে শুধু প্যারিসেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ৩ লাখ।

দেশটিতে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি শিক্ষক সংগঠন এসএনইএস-এফএসইউ আগামী শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা রক্ষার দাবি তুলেছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারের আন্দোলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রভাব পড়ে। ফরাসি সরকারের হিসাবে দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কোনো না কোনোভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই দিন ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সারাদেশে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিলো।

উল্লেখ্য, চলমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু আগামী সোমবার ৯ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সামাজিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। এ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।

তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু আলোচনার আশ্বাস যথেষ্ট নয়। বেতন, পেনশন, সরকারি সেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..