✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২০, | ১৩:৫৮:৪৪ |ইতালির মিলানে দুই দিনের বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর শহরটির নিরাপত্তায় ৫০০ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার বিলাসী পণ্যের দোকানগুলো আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি বলেন, 'মিলানকে রক্ষা করতে' সরকার অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েন করবে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সম্পত্তি ভাঙচুরের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
ইতালির ক্ষমতাসীন জোটের ডানপন্থী দল লিগের প্রধান সালভিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, 'কথা থেকে এবার কাজে: মিলানকে রক্ষা করতে আরও ৫০০ সেনা।'
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত নিরাপত্তাব্যবস্থার প্যাকেজে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এদিকে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মিলানের কেন্দ্রীয় এলাকার দোকানগুলো আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক দোকানের জানালাও কাঠের পাটাতন ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
মিলানের সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও প্রতিরোধমূলক আটক বাড়ানো এবং দলবদ্ধ জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি সেবার নিম্নমান ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার (১৭ অক্টোবর) মিলানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে সপ্তাহান্তে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। কয়েক শ মুখোশধারী বিক্ষোভকারী (যাদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে) শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ডাস্টবিনে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালায়।
টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, লুটপাটের শিকার দোকানগুলোর মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রীর বিক্রেতা ডেকাথলন ও আর্ক'টেরিক্স এবং মোবাইল ফোন অপারেটর ভোডাফোন রয়েছে। এ ছাড়া লিভাইস, আন্ডার আর্মার ও ডেকাথলন তাদের দোকানের জানালা কার্ডবোর্ড ও কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে দেয়।
মিলানের বিলাসী পণ্যের কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত ভিয়া মনতেনাপোলেওনে সড়কের অধিকাংশ দোকান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শোকেস থেকে পণ্য সরিয়ে নিয়েছে। এ সড়কে শ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দোকান রয়েছে।
আগামী বছর জাতীয় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। সোমবার তিনি মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, 'রাষ্ট্রের ওপর এসব হামলার জবাব সরকার কঠোরভাবে দেবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।'
সহিংসতা দমনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন মেলোনি। পাশাপাশি তরুণদের অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে। দেশটির সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা এ তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া পার্লামেন্টে বর্তমানে পর্যালোচনাধীন একটি নিরাপত্তা বিলের কিছু বিধান দ্রুত কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকারীরা (যাদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল) পুলিশের সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর, ডাস্টবিন ও চেয়ার ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ২৫০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ইতালির পুলিশ আরও জানিয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) মিলানে সহিংসতার ঘটনায় ২৭১ জন তরুণকে আটক করা হয়। সোমবার পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া আরও ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচারিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার উত্তর ইতালির বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বেরগামো ও তুরিনসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশের রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরিনে ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মিলানের এই অস্থিরতার সঙ্গে প্রতিবেশী ফ্রান্সের পরিস্থিতিরও মিল রয়েছে। শনিবার ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতিতে ক্ষুব্ধ কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নামেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভগুলোর একটি ছিল সেটি।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান