গ্রিনল্যান্ডে প্রথম সেনা মোতায়েন ডেনমার্কের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৩, | ১১:২১:২৩ |

আর্কটিকের বরফঢাকা ভূখণ্ডে এবার নিজেদের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট করছে ডেনমার্ক। সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় নিয়োগ পাওয়া সৈন্যদের গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করেছে কোপেনহেগেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের দাবি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ নতুন তাৎপর্য পেয়েছে।

ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড শুরু থেকেই সেই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এর মধ্যেই ডেনমার্কের সম্প্রসারিত বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা কর্মসূচির প্রথম ব্যাচের সৈন্যদের গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হলো। কোপেনহেগেনের লক্ষ্য, আর্কটিকের মতো কঠিন ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজ করার উপযোগী দক্ষ সৈন্য তৈরি করা এবং একই সঙ্গে সেখানে ডেনমার্কের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা। ১৯ বছর বয়সী সৈনিক ডেভিড বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমাদের উপস্থিতি জানান দেওয়া হয় যে আমরা এখানে আছি। আমরা কেবল নিজেদের স্বার্থ নয়, গ্রিনল্যান্ডের মানুষের কথাও ভাবছি।’

বরফের দেশে কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণ

গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছানো সৈন্যরা বর্তমানে চরম ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় যুদ্ধ এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ‘আর্কটিক অ্যান্ডুরেন্স’ নামের সামরিক মহড়ায় ন্যাড়া পাথর ও গাছপালাহীন বিস্তীর্ণ খোলা এলাকায় চলছে তাদের কঠোর অনুশীলন। সৈন্যদের কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন লরা জেপসেন জানান, বিশাল কৌশলগত যোগাযোগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিকূল ভূখণ্ড ও চরম জলবায়ুতে সৈন্যদের অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতা বাড়ানো। 

এই প্রশিক্ষণ ন্যাটোর ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ মিশনেরও অংশ। ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মন্তব্যের পর আর্কটিক অঞ্চলে জোটের উপস্থিতি বাড়ানো এবং নিজেদের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে এ বছর এই মিশন শুরু হয়েছে।

রাশিয়া-চীনের দিকেও নজর

আর্কটিক অঞ্চল শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, খনিজ সম্পদের কারণেও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই এলাকায় ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়াকে সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে রাশিয়া। আর্কটিকে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে মস্কোরই। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রমও বাড়িয়েছে চীন। ফলে অঞ্চলটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো, রাশিয়া ও চীনের স্বার্থের সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

এতদিন আর্কটিকে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করার বিষয়টি স্বীকার করেছে ডেনমার্কও। অঞ্চলটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রহের পর আর্কটিকে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার পথে হাঁটছে কোপেনহেগেন। ২২ বছর বয়সী সৈনিক আন্তনের ভাষায়, ‘এটি এই বার্তাই দেয় যে, ডেনমার্ক ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে শক্তিশালী করছে।’

তথ্য সূত্র- রয়টার্স।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..