বৈদ্যুতিক গাড়ির মাইলেজ বাড়াবে নতুন সেন্সর

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৩, | ০১:১৩:২৯ |
বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ব্যাটারির কর্মদক্ষতা ও মাইলেজ বাড়াতে একটি ছোট সেন্সর উদ্ভাবন করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস (টিআই)। ‘টিএমসিএস২১০০-কিউ১’ মডেলের নতুন এই প্রযুক্তিগত সেন্সরটি মূলত গাড়ির ট্র্যাকশন ইনভার্টারে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির ইনভার্টার মূলত ব্যাটারি থেকে মোটরে ঠিক কতটা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে, তা সার্বক্ষণিক ও নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

ইনভার্টার যত সুনির্দিষ্টভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে, গাড়ির মোটরকে তত সূক্ষ্ম ও দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ প্রবাহের পরিমাপে সামান্য পার্থক্য বা ত্রুটি হলে সরবরাহের শক্তিতে সূক্ষ্ম ওঠানামা তৈরি হয়, যা অটোমোবাইল প্রকৌশলে ‘টরক রিপল’ নামে পরিচিত। ফলে গাড়ি চালনার সময় চালক ও যাত্রীরা অপ্রত্যাশিত মৃদু ঝাঁকুনি অনুভব করতে পারেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তাপ ও মোটরে বাড়তি শব্দ উৎপন্ন হয়ে ব্যাটারির কিছু মূল্যবান শক্তি অপচয় হয়।

বর্তমানে বাজারে প্রচলিত সেন্সরগুলোর ক্ষেত্রে গাড়ি নির্মাতাদের কিছু না কিছু ছাড় দিতে হয়। চুম্বকযুক্ত প্রথাগত ম্যাগনেটিক কোর সেন্সরগুলো বেশ নির্ভুল হলেও আকারে অনেক বড় ও ভারী হয়ে থাকে। অন্যদিকে কোরবিহীন সেন্সরগুলো আকারে ছোট হলেও গাড়ি চলাচলের সময় সড়ক থেকে আসা স্বাভাবিক কম্পনের কারণে ভুল রিডিং প্রদান করে।

এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস এক যুগান্তকারী কমপ্যাক্ট সেন্সর ডিজাইন করেছে। এটি একক কোনো নির্দিষ্ট দিকের বদলে একই সঙ্গে আনুভূমিক ও উল্লম্ব দুই দিকে চৌম্বক ক্ষেত্র পরিমাপ করতে সক্ষম। ফলে চলন্ত অবস্থায় কম্পনের কারণে সেন্সরটি সামান্য স্থানচ্যুত হলেও নিজের পরিমাপের নির্ভুলতা ধরে রাখতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, নতুন এই সেন্সরটি বর্তমানে ব্যবহৃত একমুখী কোরবিহীন সেন্সরের চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি নির্ভুল ফলাফল দেয়। গাড়ি চলার সময় সেন্সরটি নিজের মূল অবস্থান থেকে শূন্য দশমিক ৪ মিলিমিটার পর্যন্ত সরে গেলেও এতে পরিমাপের ভুলের মাত্রা সর্বদা ১ শতাংশের নিচে থাকে। দ্রুত শক্তি স্থানান্তরকারী সর্বাধুনিক ৮০০ ভোল্টের ইভি পাওয়ারট্রেন সিস্টেমের জন্য এই উচ্চমাত্রার সূক্ষ্ম পরিমাপ অত্যন্ত কার্যকর।

নতুন এই সেন্সরের ব্যবহারে বৈদ্যুতিক গাড়িতে দ্রুত গতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা হবে মসৃণ, কেবিনে মোটরের শব্দ অনেকটাই কমে আসবে এবং শক্তি অপচয় বন্ধ হবে। যার ফলে একই ক্ষমতার ব্যাটারিতে গাড়ির মাইলেজ আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..