১০০ গ্রাম প্লাস্টিক দিলেই চিড়িয়াখানায় বিনা মূল্যে ঢুকতে পারবে শিক্ষার্থীরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৩, | ০০:৪৪:২৫ |

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রবেশের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য ও সুস্থভাবে গড়ে তুলতে হলে তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ভালো হওয়ার কথা বলা বা নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাঁদের প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে তরুণদের একটি বড় অংশ অতিরিক্ত পর্দানির্ভর হয়ে পড়ছে। মুঠোফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চ্যুয়াল জগতে তাঁদের অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও তাঁদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই চিড়িয়াখানাকেন্দ্রিক এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চিড়িয়াখানায় বাঘ, ভাল্লুক, কুমিরসহ বিভিন্ন প্রাণী ও পাখি সরাসরি দেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। অনেক শিক্ষার্থী এসব প্রাণী অনলাইনে দেখলেও বাস্তবে দেখার সুযোগ পায় না। আবার আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অভিভাবক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসতে পারেন না।

এ কারণে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় জনপ্রতি প্রবেশমূল্য প্রায় ৭০ টাকা। নতুন উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীদের এই অর্থ দিতে হবে না।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব সবার। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..