✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৮, | ১৪:১৪:২২ |আমরণ অনশনের ২১তম দিনে লাদাখের বিশিষ্ট প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার ভোরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে তার অনশনস্থল থেকে পুলিশ তাকে সরিয়ে রাজধানীর সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি সচেতন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিভিন্ন মহলের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি অনশন ভাঙতে রাজি হননি।
এদিকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। কর্মসূচিতে ব্যাপক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে কয়েকদিন আগে একটি ভিডিও বার্তাও দেন ওয়াংচুক। এর মধ্যেই তাকে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোরে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা যন্তর-মন্তরে পৌঁছে দ্রুত ওয়াংচুকের অনশনস্থল ঘিরে ফেলেন। পরে তাকে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার সমর্থক ও সহকর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় আদালতের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যন্তর-মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে, দিল্লি হাইকোর্ট সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। চিকিৎসকদের সর্বশেষ মূল্যায়নে তার অবস্থাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। তারা সতর্ক করে জানান, দীর্ঘ অনশনের কারণে তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসা বুলেটিন অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে ওয়াংচুকের ওজন ৮ কেজিরও বেশি কমে গেছে। প্রতিদিনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, যা প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে গত কয়েক দিনে বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা যন্তর-মন্তরে যান। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ অনেকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আন্দোলনকারীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাদের ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সহযোগী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, এসব কর্মসূচি দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির আগে এই পদক্ষেপ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র : এনডিটিভি