ভালোবাসেন, তবুও সম্পর্ক নিয়ে সংশয়?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৬, | ১৮:০০:৪৩ |
ভালোবাসা হৃদয়ের এক গভীর অনুভূতি। অথচ অনেক সময় ভালোবাসার মানুষকে নিয়েও মনের মধ্যে বারবার উঁকি দেয় সন্দেহ। মনে হয়,মানুষটি হয়তো আপনার জন্য সঠিক নয়। মনের মধ্যে তৈরি হয় অস্থিরতা। এমন অনুভূতি থেকে অনেকের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার তাগিদ দেখা দেয়। কেউ বা সঙ্গীর ছোটখাটো আচরণ নিয়েও করেন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা। অনেকে এসব বিষয়কে সম্পর্কের স্বাভাবিক সমস্যা মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অনুভূতি যদি বারবার ফিরে আসে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে এবং মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়, তাহলে সেটাকে বলা হয় রিলেশনশিপ অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার।

যেভাবে ধরা পড়ে সমস্যা
যুক্তরাজ্যের ২৪ বছর বয়সী সোফিয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে একটি সম্পর্কে রয়েছেন। কিন্তু সম্পর্ক যত গভীর হয়েছে, ততই তার মনে বাড়তে থাকে নানা সন্দেহ। এমনকি একসময় তিনি ঘর থেকে বের হওয়া ও কাজে যাওয়াও বন্ধ করে দেন। মানসিক স্বস্তি পাওয়ার আশায় অনলাইনে বিভিন্ন তথ্য খোঁজার পাশাপাশি চ্যাটজিপিটিকেও বারবার একই ধরনের প্রশ্ন করতেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিজ্ঞতা এই সমস্যার পরিচিত লক্ষণ।

কেন তৈরি হয় এমন সন্দেহ
সাউথ লন্ডন অ্যান্ড মডসলি এনএইচএস ট্রাস্টের পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডেভিড ভিল বলেন, সাধারণ সম্পর্কে সাময়িক সন্দেহ থাকতেই পারে। কিন্তু এ সমস্যার ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা মানুষের মনকে সারাক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখে এবং প্রচণ্ড উদ্বেগ তৈরি করে। এতে প্রচুর মানসিক শক্তির অপচয় হয় এবং স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হতে শুরু করে।

তার ভাষায়, এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা মানসিক স্বস্তি পাওয়ার জন্য বারবার একই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন, সঙ্গীর কাছ থেকে আশ্বাস চান বা বিভিন্নভাবে সম্পর্ক যাচাই করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব আচরণ সাময়িক স্বস্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত ওসিডির চক্রকে আরও শক্তিশালী করে।

দুই ধরনের রিলেশনশিপ ওসিডি
ইসরায়েলের রাইখম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক গাই ডোরন বলেন, রিলেশনশিপ ওসিডি সাধারণত দুই ধরনের। একটিতে মানুষ নিজের অনুভূতি নিয়েই সন্দেহে ভোগে—সে সত্যিই সঙ্গীকে ভালোবাসে কি না। অন্যটিতে সঙ্গীর ছোটখাটো ত্রুটি, আচরণ বা চেহারার বিষয়গুলো অতিরঞ্জিতভাবে চোখে পড়ে এবং তা নিয়েই সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

তার মতে, সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়া, একসঙ্গে থাকা শুরু করা বা বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময় অনেকের মধ্যে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব
অধ্যাপক ডোরন বলেন, নিখুঁত হওয়ার প্রবণতা, অতিরিক্ত চিন্তা করার অভ্যাস এবং শৈশবের সম্পর্কগত অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে এ সমস্যার প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ককে প্রায়ই নিখুঁত ও আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা হয়। ফলে অনেকেই নিজের সম্পর্ককে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে অকারণ সন্দেহে ভুগতে শুরু করেন।

ব্রিস্টলের বাসিন্দা গ্রেসি, যিনি সাত বছর ধরে এ সমস্যার সঙ্গে বসবাস করছেন, তিনি বলেন, সুখী দম্পতির ছবি নয়; বরং ‘সঠিক মানুষকে পেলে তা নিজে থেকেই বুঝে যাবেন’—এ ধরনের ধারণাই তার উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে, তিনি কেন শতভাগ নিশ্চিত হতে পারছেন না।

তার মতে, এ সমস্যায় ভোগার অর্থ এই নয় যে কেউ তার সঙ্গীকে ভালোবাসেন না। বরং ওসিডি মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকেই সন্দেহের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিভিন্ন ধরনের থেরাপি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের মাধ্যমে অনেক উপসর্গই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

অধ্যাপক ডোরনের পরামর্শ, বারবার সঙ্গীকে পরীক্ষা করা, একই প্রশ্নের নিশ্চয়তা খোঁজা, অনলাইনে অতিরিক্ত তথ্য অনুসন্ধান করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সম্পর্কের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের তুলনা করার অভ্যাস কমাতে হবে। কারণ এসব আচরণ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..