আদালতের রায়: ব্লুমবার্গকে দিতে হবে ৩.৫ লাখ ডলার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৬, | ১৪:১১:২৯ |
সিঙ্গাপুরের দুই মন্ত্রীর করা মানহানির মামলায় সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ ও এর এক প্রতিবেদককে ৪ লাখ ৬০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ডলার) ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। গত বছরের একটি প্রতিবেদনে দুই মন্ত্রীর সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য প্রকাশের জেরে এ মামলা হয়। খবর বিবিসি।

মামলাটি করেন সিঙ্গাপুরের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয় মন্ত্রী কে শানমুগাম ও জনশক্তিমন্ত্রী ট্যান সি লেং। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে তাদের সম্পত্তি কেনাবেচার তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল।

ব্লুমবার্গের দাবি, ওই প্রতিবেদনে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ করা হয়নি। বরং সিঙ্গাপুরের বিলাসবহুল বাড়ির বাজারে বাড়তে থাকা গোপনীয়তার প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে তাদের লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে আদালত ভিন্ন মত দেন। রায়ে বলা হয়, পুরো প্রতিবেদনটি একসঙ্গে পড়লে দুই মন্ত্রীর সম্পত্তি লেনদেনের সঙ্গে অস্বচ্ছতা ও অর্থপাচারের সম্ভাবনার সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে হয়।

বিচারকের মতে, এ ধরনের ইঙ্গিত তাদের ব্যক্তিগত সততা ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তাই ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

‘সিঙ্গাপুর ম্যানশন ডিলস আর ইনক্রিজিংলি শ্রুডেড ইন সেক্রেসি’ শিরোনামের প্রতিবেদনে সিঙ্গাপুরের বহুমূল্যের ‘গুড ক্লাস বাংলো’ কেনাবেচায় গোপনীয়তা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অনেক ধনী ক্রেতা নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে শেল কম্পানি বা ট্রাস্টের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব সম্পত্তি কিনছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কে শানমুগাম একটি বাংলো ৮ কোটি ৮০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে ট্রাস্টের মাধ্যমে এক অজ্ঞাত ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন। এছাড়া ট্যান সি লেং প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারে একটি গুড ক্লাস বাংলো কিনেছেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই দুই মন্ত্রী আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।

তাদের আইনজীবীদের দাবি, প্রতিবেদনে তাদের সম্পত্তি লেনদেনকে অস্বচ্ছতা ও অর্থপাচারসংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে অন্যায্যভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে ব্লুমবার্গ আদালতে যুক্তি দেয়, প্রতিবেদনে দুই মন্ত্রীকে শুধু আলোচিত সম্পত্তি লেনদেনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশের আগে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাদের মন্তব্যও চাওয়া হয়েছিল।

রায়ের পর আদালতের নির্দেশে ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয় ব্লুমবার্গ।

তবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক জন মিকলথওয়েট এক বিবৃতিতে বলেন, রায়ে তারা হতাশ। তবুও আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..