হলিউডের দুই জায়ান্টের একীভূতকরণে বাধা, মামলা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৬, | ১৪:০৭:১৯ |
হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণের উদ্যোগ বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্য।

ওয়ার্নার ব্রাদার্স ও প্যারামাউন্টের মধ্যকার ১১ হাজার কোটি ডলারের চুক্তিটি ঠেকাতে যৌথভাবে মামলা করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, একীভূতকরণের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা কমবে ও গ্রাহক পর্যায়ে খরচের বোঝা বাড়বে। খবর বিবিসি।

ক্যালিফোর্নিয়ার নেতৃত্বে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মূল সদর দপ্তর ও প্রডাকশন স্টুডিও এখানেই অবস্থিত।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা বলেন, ‘চুক্তিটির ফলে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সিনেমা হল ও ড্রয়িংরুমের দর্শকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

একীভূতকরণ সফল হলে নতুন গঠিত একক কোম্পানিটি হলিউডের প্রধান চলচ্চিত্রগুলোর ২৫ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করবে। তখন ডিজনি, ইউনিভার্সাল ও সনির সঙ্গে মিলে চারটি বড় কোম্পানি পুরো বাজারের ৮৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোর জানায়, প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের প্রধান নির্বাহী ডেভিড এলিসনকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তার উপদেষ্টারা। ডেভিড এলিসন হলেন প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের ল্যারি এলিসনের ছেলে। উল্লেখ্য, প্যারামাউন্ট প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে জানান, তিনি একে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছেন। বোন্টার মতে, এটি একটি অবৈধ চুক্তিকে অনুমোদন দিতে নিয়ন্ত্রকদের ব্ল্যাকমেইল করার শেষ চেষ্টা। তবে এ হুমকি কোনো কাজে আসবে না বলে জানান তিনি। অবশ্য এ বিষয়ে প্যারামাউন্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স এক হলে হলিউডের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এক ছাদের নিচে আসবে। তাদের মালিকানায় রয়েছে ‘হ্যারি পটার’, ‘ব্যাটম্যান’, ‘মিশন: ইম্পসিবল’ ও ‘টপ গান’-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র সিরিজ। এছাড়া সিএনএন, এমটিভি ও নিকেলোডিয়নের মতো জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলও এ দুই জায়ান্টের অধীনস্থ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) গত মাসে এ একীভূতকরণের অনুমোদন দেয়। তবে অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা এখন আদালতের বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

অবশ্য চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, প্রথাগত মিডিয়া জগৎ এখন বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কেবল টিভির দর্শক দ্রুত কমছে। পাশাপাশি ওটিটি প্লাটফর্ম ও প্রযুক্তি জায়ান্টদের কারণে সিনেমা হলের দর্শক সংখ্যাও চাপে রয়েছে। ফলে টিকে থাকতে হলে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

প্যারামাউন্ট এক বিবৃতিতে মামলাটিকে সম্পূর্ণ ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ও ‘ভুল’ বলে আখ্যা দিয়ে আদালতে চুক্তির পক্ষে লড়াই করার ঘোষণা দেয়।

কোম্পানিটি আরো জানায়, চুক্তিটি ঝুলে থাকলে বিনোদন কর্মীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে গত কয়েক বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..