বন্যায় মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৬, | ১৪:০৫:২১ |

কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলা আবারও বন্যার কবলে পড়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, বান্দরবান, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় শুধু মৎস্য খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। পানির স্রোতে মাছ ও চিংড়ির পোনা ভেসে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন এলাকার ঘের ও খামার।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় দেশের ৪৩ জেলায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আউশ ও আমনের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন সবজির ক্ষেত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ লাখের বেশি কৃষক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী ও যশোরসহ ১৬ জেলায়। এসব এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এর বিরূপ প্রভাব এখনো রয়ে গেছে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে। অনেক এলাকায় বীজতলা ও সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন গবাদিপশুর খামারিরাও।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারি জমিতে নতুন করে বীজতলা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অর্থের অপচয় রোধ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নেরও পরামর্শ দেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..