যে কারণে ফুটবল সুন্দর-মানবিক ও প্রতিবাদী

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৪, | ২২:৩৭:১৯ |

বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে জয়ের পর মিশরের কোচ হোসাম হাসান সেই বিজয় উৎসর্গ করেছেন ফিলিস্তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে। শুক্রবার রাতে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এই জয়ের পর তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তার হৃদয় ও আত্মা সবসময় ফিলিস্তিনিদের সাথেই আছে। গাজার মানুষদের জন্য দোয়া করে তিনি তাদের বিজয় এবং শহীদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। কোচ হোসাম হাসান নিজে মাঠে মিশর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে উৎসবে মাতেন। এরপর পুরো দলের খেলোয়াড়রা একসাথে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। কোচের এই সংবেদনশীল আচরণ এবং ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি মিশরের প্রাক্তন কিংবদন্তি ফুটবলার মোহাম্মদ আবুত্রিকাসহ অনেকে কোচের এই সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

এই জয়ের মাহেন্দ্রক্ষণটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলার ১০০০ দিন পূর্ণ হলো। গত প্রায় তিন বছরের ভয়াবহ যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে যখন অবরুদ্ধ গাজার সাধারণ মানুষ এক অনিশ্চিত ও মানবেতর জীবনযাপন করছে, তখন ফুটবলের এই জয় তাদের জন্য নিয়ে এসেছে এক চিলতে আনন্দের উপলক্ষ। গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো ধ্বংসস্তূপের মাঝেও বড় পর্দায় বা ছোট কোনো ডিভাইসে প্রিয় দলের এই জয় উপভোগ করেছেন। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, গাজার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে মানুষ মিশরের পতাকাসহ উল্লাস করছেন। অনেক গাজাবাসী এই জয়কে তাদের দীর্ঘ কষ্টের মাঝে বিরল এক আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মিশরের এই জয়কে কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে না দেখে, বরং তা বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ। 

সূত্র: নিউ আরব 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..