✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-৩০, | ১৩:৫৫:২৬ |ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫০০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।
বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহের দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের উদ্ধারে কাজ করছেন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী লা গুয়েরায় মানুষ লোহার রড, হাতুড়ি ও গাঁইতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন। এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। যদিও এতে নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ দুর্যোগকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সময়ের সঙ্গে কমে আসছে। তবে সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়েরা প্রদেশে আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে।
পাশাপাশি কাতিয়া লা মারসহ আশপাশের এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারি তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ৩২ বছর বয়সী বিদ্যুৎকর্মী রুবেন রোহাস বলেন, উদ্ধারকর্মীদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে।
৩৯ বছর বয়সী ক্যারোলিন জেরপা জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে বাবা ও ভাইকে খুঁজছেন। তার ভাষায়, "শুধু একটি গাঁইতি দিয়ে খুব বেশি কিছু করা যায় না। এখন আর জীবিত উদ্ধারের আশা নেই। অন্তত স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করতে চাই।"
১৫ বছর ধরে লা গুয়েরায় বসবাসকারী জুলি মারিন বলেন, সরকারের সহায়তা দ্রুত পৌঁছালে আরও অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো। ভূমিকম্পে তিনি তার ভাগনি ও ভগ্নিপতিকে হারিয়েছেন।
কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা এল হুনকিতোতেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। সেখানে কৃষক ও বাসিন্দারাই দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করছেন।
অবশ্য প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দাবি করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিশনও গঠন করা হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির নির্মাণের কাজও চলছে।
জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়ক জিয়ানলুকা রাম্পোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর ৫০০টির বেশি আফটারশক হয়েছে। অন্তত ২ হাজার ৫০০ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অধিকাংশই পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
তিনি জানান, সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘ ১০ হাজার মরদেহ বহনের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। তার মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জন্য ৩০ কোটি ডলারের বেশি জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। এই অর্থ চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং ত্রাণ পরিবহনে ব্যয় করা হবে।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল বর্তমানে লা গুয়েরা উপকূলে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে একটি জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে চীন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।