বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে থমকে যেতে হয়েছে ইরানকে। মিসরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে করা গোল মিলিমিটারের অফসাইডে বাতিল হয়, এরপরই ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে আরেকটি হেড। ১-১ গোলে ড্রয়ের পর তাই হতাশা, ক্ষোভ আর আক্ষেপ—সবকিছু একসঙ্গেই প্রকাশ করলেন ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোয়ি।
সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় পেলেই বেলজিয়ামের পর গ্রুপ ‘জি’-এর রানার্সআপ হিসেবে সরাসরি নকআউট পর্ব নিশ্চিত করত ইরান। কিন্তু নাটকীয় সমাপ্তিতে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়।
যদিও শেষ পর্যন্ত ইরানের সামনে একটি সুযোগ ছিল। তৃতীয় সেরা ৮ দলের একটি হয়ে নক-আউট পর্বে নাম লেখানোর। তবে ক্রোয়েশিয়া, ডিআর কঙ্গোর জয় এবং অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচ ড্র হওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ই হয়ে গেছে তাদের।
এই বিদায়ের আগেই গতকাল সংবাদ সম্মেলনে গালেনোয়ি বলেছিলেন, ‘নিয়ম তো নিয়মই। প্রযুক্তির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমি সেটি মেনে নিচ্ছি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। মাত্র কয়েক মিলিমিটারের জন্য গোলটি বাতিল হলো। সিদ্ধান্ত হয়তো সঠিক ছিল, কিন্তু ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল না।’
এরপরই আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আগে ভাবতাম আমরা বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত দলগুলোর একটি। এখন বুঝতে পারছি, আমরা সবচেয়ে দুর্ভাগা দলও।’
শুধু মাঠের ঘটনা নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই নানা ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন ইরান কোচ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপ শুরুর আগে দলের বেসক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় মেক্সিকোর তিহুয়ানায়।
প্রথম দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে ম্যাচের মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পায় ইরান। ম্যাচ শেষেই আবার ফিরে যেতে হয় তিহুয়ানায়। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে অবশ্য দুই দিন আগে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এই যাতায়াত খেলোয়াড়দের শারীরিক পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন গালেনোয়ি।
তিনি বলেন, ‘একটি ম্যাচের পর স্বাভাবিকভাবেই শরীর ক্লান্ত থাকে। সেই অবস্থায় তিন ঘণ্টার বিমানযাত্রা করে আবার তিহুয়ানায় ফিরতে হলে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যায়। আমাদের সঙ্গে এটি তৃতীয়বার ঘটেছে। আমাদের প্রতি তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত খারাপ। আশা করি, পুরো বিশ্ব বিষয়টি দেখেছে।’
গালেনোয়ি আরও বলেন, ‘এসব আমাদের ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর সঙ্গে আমাদের দেশে যুদ্ধও চলছে। এত প্রতিকূলতার পরও আমরা ভালো খেলেছি। আজ বিশ্বের মানুষ ইরান ও আমাদের দলকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।’
ফিফার প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে আয়োজক দেশের ওপর আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
‘আমি জানি, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আমাদের সমস্যাগুলো কমানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেনি। আমি ফিফার কাছে অনুরোধ করব, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো দলের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়। ইনফান্তিনোর উচিত আয়োজকদের সামনে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।’
নিজের বক্তব্যের শেষদিকে আবেগাপ্লুত হয়ে দেশের মানুষ ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে গালেনোয়ি বলেন, ‘পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে আমি আমার জাতিকে, শহীদদের এবং এই দলকে বলতে চাই—এই তরুণরা যা করেছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে।’
এ জাতীয় আরো খবর..