শেষ রাতের সিজদা সৌভাগ্যের প্রতীক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৩, | ১৩:৩৩:৪০ |

রাতের শেষ ভাগে যখন মানুষেরা গভীর নিদ্রায় নিমগ্ন থাকে, তখন কিছু সৌভাগ্যবান বান্দা নিজেদের বিছানা ছেড়ে মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হয়। তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে, কান্নাভেজা কণ্ঠে রবের কাছে ক্ষমা, রহমত ও হেদায়েত প্রার্থনা করে।

রাতের শেষ অংশের ইবাদতকে মহান আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এটি নেককারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঈমানদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমার নিদর্শনাবলীতে কেবল তারাই বিশ্বাস করে যাদেরকে এর দ্বারা উপদেশ দেওয়া হলে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আর তাদের প্রতিপালকের প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে আর তারা অহংকার করে না।

তারা তাদের (দেহের) পার্শ্বগুলো বিছানা থেকে আলাদা করে (জাহান্নামের) ভীতি ও (জান্নাতের) আশা নিয়ে তাদের প্রতিপালককে ডাকে, আর আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তাত্থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।’ (সুরা সিজদা, আয়াত : ১৫-১৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের গুণাবলী আলোচনা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা রাত্রিকালে খুব কমই শয়ন করত। আর তারা রাত্রির শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ (সুরা যারিয়াত, আয়াত  : ১৭-১৮)

এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, শেষ রাতে ইবাদত ও ইস্তিগফার করা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিশেষ গুণ। এই গুণে গুনান্বিত হতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের, যা মহান আল্লাহর দরবারে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে। এ ব্যাপারে অবগত করতে গিয়ে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আর রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়, ওটা তোমার জন্য নফল, শীঘ্রই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯)

আমাদের প্রিয় নবী (সা.) তাঁর উম্মতদের শেষ রাতের আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, মহামহিম আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন, কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে। আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন যে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি, হাদিস : ১১৪৫)

সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহিনের জীবনে তাহাজ্জুদের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তারা রাতের শেষ অংশকে নিজেদের আত্মশুদ্ধি, তাওবা, জিকির ও দোয়ার জন্য নির্ধারিত রাখতেন। কারণ তারা জানতেন, এ সময়ের একটি সিজদা ও একটি অশ্রুবিন্দু মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

সুতরাং শেষ রাতের ইবাদত কেবল একটি নফল আমল নয়; এটি আল্লাহর নৈকট্য, মর্যাদা বৃদ্ধি, গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল এবং হূদয়ের প্রশান্তি অর্জনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। যারা ঘুমের মায়া ত্যাগ করে শেষ রাতে আল্লাহর দরবারে দাঁড়ায়, তারা সত্যিই সৌভাগ্যবান। কারণ তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর বিশেষ রহমত, ক্ষমা ও নৈকট্যের সুসংবাদ।

মহান আল্লাহ সবাইকে এই সৌভাগ্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..