আমরা অনেকেই মনে করি দাঁতের ক্যাভিটি বা সেনসিটিভিটি বোধহয় কেবল ভাগ্যের দোষ। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁতের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার প্রায় ৭০ শতাংশই আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের ফল। ছোট ছোট কিছু ভুল কাজ দিনের পর দিন করার ফলে আমাদের দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয় এবং অকালেই দাঁত নষ্ট হয়ে যায়।
আপনার অজান্তেই দাঁতের ক্ষতি করছে এমন ১৫টি অভ্যাস এবং তা থেকে বাঁচার উপায় নিচে তুলে ধরা হলো।
দাঁত মাজার ভুল পদ্ধতি
১. খাওয়ার পরপরই ব্রাশ করা: টকজাতীয় খাবার বা কোমল পানীয় খাওয়ার পর দাঁতের এনামেল সাময়িকভাবে নরম থাকে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্রাশ করলে এনামেল দ্রুত ক্ষয় হয়। তাই খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর ব্রাশ করা উচিত।
২. অতিরিক্ত জোরে ব্রাশ করা: খুব জোরে বা শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজলে মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দাঁতের শিকড় বেরিয়ে পড়ে সেনসিটিভিটি তৈরি করে। সবসময় নরম ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো।
৩. পুরানো টুথব্রাশ ব্যবহার: একটি ব্রাশ ৩-৪ মাসের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। পুরানো ব্রাশের ব্রিসল কার্যকর থাকে না এবং সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
৪. জিভ পরিষ্কার না করা: জিভ ব্যাকটেরিয়ার প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র। জিভ পরিষ্কার না করলে সেই জীবাণুগুলো দাঁতে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ ও প্লাক তৈরি করে।
৫. ধীরে ধীরে দীর্ঘক্ষণ ধরে পানীয় পান করা: চুমুক দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সোডা বা চা পান করলে মুখ দীর্ঘক্ষণ অ্যাসিডিক পরিবেশে থাকে, যা এনামেলের জন্য চরম ক্ষতিকর।
৬. আঠালো ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবার: কিশমিশ বা শুকনো ফলের মতো আঠালো খাবার দাঁতের ফাঁকে দীর্ঘক্ষণ লেগে থাকে, যা ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়। এই ধরনের খাবার খাওয়ার পর জল দিয়ে মুখ ধোয়া জরুরি।
৭. লেবু জল বা ভিনেগারের অতিরিক্ত ব্যবহার: ওজন কমাতে লেবু জল বা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার উপকারী হলেও এর অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে। এসব পানীয় পান করার সময় স্ট্র ব্যবহার করা ভালো।
৮. সুপারি ও তামাক সেবন: সুপারি বা গুটখা চিবানো দাঁতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি দাঁতের ক্ষয়, দাগ এবং মুখে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
৯. মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া: ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং লালার প্রবাহ কমে যায়। লালা দাঁতকে অ্যাসিড থেকে রক্ষা করে, তাই মুখ শুকিয়ে গেলে ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ে।
১০. দাঁতে দাঁত ঘষা: অনেকে ঘুমের মধ্যে বা মানসিক চাপে দাঁত কিড়মিড় করেন। এতে দাঁতে সূক্ষ্ম ফাটল ধরে এবং দাঁত ক্ষয়ে যায়।
১১. দাঁতকে যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা: দাঁত দিয়ে প্যাকেট খোলা বা সুতো কাটার মতো কাজ করলে দাঁত চিপ বা ভেঙে যেতে পারে।
১২. পর্যাপ্ত জল পান না করা: ডিহাইড্রেশন বা জলের অভাব লালা নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। লালা হলো দাঁতের সুরক্ষার প্রথম ঢাল, তাই পর্যাপ্ত জল পান করা দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
১৩. ফ্লস না করা: শুধু ব্রাশ করলে দাঁতের মাত্র ৬০ শতাংশ পরিষ্কার হয়। বাকি ৪০ শতাংশ ময়লা থেকে যায় দাঁতের চিপে, যা কেবল ফ্লসিংয়ের মাধ্যমে পরিষ্কার করা সম্ভব।
১৪. চিকিৎসায় দেরি করা: দাঁতে ফাটল বা ফিলিং নষ্ট হলে ব্যথা না থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা করানো উচিত। অবহেলা করলে পরবর্তীতে রুট ক্যানালের মতো জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
১৫. গুগল দেখে নিজে চিকিৎসা করা: দাঁতের ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে অনলাইনে সমাধান খোঁজা বিপজ্জনক। সামান্য সমস্যা অবহেলার কারণে বড় রূপ নিতে পারে।
শেষ কথা
দাঁতের সুরক্ষা শুরু হয় সচেতনতা থেকে। আপনার এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই ভবিষ্যতে দাঁতের বড় খরচ এবং কষ্ট থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে। তাই আজই এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করুন এবং সুস্থ হাসি নিশ্চিত করুন।
তথ্যসূত্র: শশানে ডেন্টাল.কম
এ জাতীয় আরো খবর..